অনলাইন ডেস্ক
একই প্রশ্নপত্রে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে কাল (বৃহস্পতিবার) শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।
এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেল থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি (ভোকেশনাল)-এর তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তাত্ত্বিক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত।
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে কঠোর বিধান যুক্ত হওয়ায় আগের তুলনায় পরীক্ষা আরও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
জানা যায়, এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯ টি। সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। ৪ হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। ২ হাজার ৭০৫টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ৪৬১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৪৭ জন কম। ১ হাজার ৮৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে পরিবর্তন করছি, যেখানে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষায় নিয়ে আসতে চাইছি।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.