রবীন্দ্রসাহিত্য গবেষণা ও রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ ও শিল্পী বুলবুল ইসলাম।
সোমবার ঢাকার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই গুণীজনকে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক, সনদ ও পুষ্পস্তবক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে গবেষণা, সাহিত্যচর্চা ও সংগীতচর্চার বিকল্প নেই। রবীন্দ্রভাবনা ও মানবিক চেতনা বিস্তারে পুরস্কারপ্রাপ্তদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিন্তার জগৎ এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথকে নতুনভাবে পাঠ ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সমকালীন সমাজ-বাস্তবতায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ‘রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা। আলোচনায় অংশ নেন নাসিমা আনিস ও রায়হান রাইন। তারা রবীন্দ্রনাথের গল্প ও উপন্যাসে মানবজীবনের বহুমাত্রিক উপস্থাপনার দিক তুলে ধরেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ বলেন, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণার এমন স্বীকৃতি তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। তিনি ভবিষ্যতেও রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিল্পী বুলবুল ইসলাম বলেন, বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি তার শিল্পীজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা ও প্রসারে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন লাইসা আহমদ লিসা ও ফারহিন খান জয়িতা। এছাড়া রবীন্দ্রকবিতা আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ড. মাহবুবা রহমান।