অনলাইন ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বছর প্রাপ্ত তার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা বিশ্বাস করেন এই পুরস্কারটি তাদের সবার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে এর অংশীদার করতে পারলে অত্যন্ত খুশি হবেন। গত বছর মাচাদো যখন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জেতেন, তখন ট্রাম্পও এটি পাওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
কিন্তু ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে মাচাদো যখন নরওয়ের অসলোতে উপস্থিত হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন, তখন থেকেই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুহূর্তে ট্রাম্পের এই অসন্তোষ মাচাদোর ক্ষমতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মাচাদোর নোবেল গ্রহণ করার সিদ্ধান্তটিকে ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে নেননি। কর্মকর্তারা মনে করেন, মাচাদো যদি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করতেন, তবে হয়তো আজ তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকতেন।
এক কর্মকর্তা মাচাদোর নোবেল গ্রহণকে ‘পাপ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, এই একটি সিদ্ধান্তের কারণেই ট্রাম্প তাকে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দিতে আগ্রহী নন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাচাদোর নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হয়েছিল বলে ধারণা করা হলেও গত শনিবার মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্প মাচাদোকে কোনো দায়িত্ব না দিয়ে বরং ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দিয়েছেন।
ক্ষমতার জন্য উদগ্রীব মাচাদো মাদুরোর পতনের পরপরই দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি ঘোষণা করলেও ট্রাম্প তার সেই আশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মাচাদোর ভেনেজুয়েলা শাসন করার সক্ষমতা নেই এবং সে দেশের মানুষের কাছে তার যথেষ্ট শ্রদ্ধা নেই। ট্রাম্পের এমন কঠোর বক্তব্যে মাচাদো ও তার সমর্থকরা বিস্মিত ও ব্যথিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল ভাগ করে নেওয়ার এই প্রস্তাব মূলত ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি কৌশল, যাতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ সরকারে মাচাদো নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত মাচাদোর বদলে নিজেদের পছন্দমতো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেই বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.