আফগানিস্তানে বিমান হামলা পাকিস্তানের, যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দুই প্রতিবেশী
আফগানিস্তানে বিমান হামলা পাকিস্তানের, যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দুই প্রতিবেশী
editor
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক :
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে রাতভর জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, দেশটির দক্ষিণ কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও জঙ্গিগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’ লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
Manual8 Ad Code
খবর আলজাজিরার
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (পিটিভি) রোববার (১৫ মার্চ) জানিয়েছে, কান্দাহারে চালানো এই অভিযানে তালেবানের কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র এবং একটি সরঞ্জাম মজুত করার স্থাপনা ‘কার্যকরভাবে’ ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ব্যবহার করে পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছিল। এছাড়া একটি সুড়ঙ্গেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সরকারি নাম) এবং আফগান তালেবানের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখা ছিল।
Manual7 Ad Code
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে কান্দাহারের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্পিন বোল্ডাক এবং খোস্ত প্রদেশেও সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
Manual4 Ad Code
তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তানি হামলায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র এবং একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি করা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথা তিনি অস্বীকার করেন।
এই হামলার আগে গত শুক্রবার পাকিস্তানের তিন স্থানে ড্রোন হামলা চালায় আফগানিস্তান। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সতর্ক করেছিলেন, কাবুল ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে। ইসলামাবাদ বলছে, কান্দাহারের ওই স্থাপনা থেকেই ড্রোন হামলাগুলো পরিচালিত হচ্ছিল।
Manual3 Ad Code
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সীমান্ত সংঘাত এ পর্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সংঘাতের ফলে আফগানিস্তানে অন্তত ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক এবং পাকিস্তানের ১৩ জন সৈন্যসহ মোট ৯৯ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই এই নতুন ফ্রন্ট খোলার বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।