আজ রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

editor
প্রকাশিত মার্চ ২২, ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া-কে লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছে ইরান—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে চলমান যুদ্ধে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি মাঝপথে ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। তবে হামলা সফল হোক বা না হোক, এই প্রচেষ্টা কৌশলগত দিক থেকে বড় বার্তা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি যুক্তরাজ্য-এর নিয়ন্ত্রণে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার, যেখানে তেহরান এতদিন তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সত্যিই এই হামলার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের কাছে ঘোষণার বাইরে আরও দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা থাকতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও দক্ষিণ ইউরোপ বা ভারত মহাসাগরের গভীর অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

দিয়েগো গার্সিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়—এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে দূরপাল্লার বোমারু বিমান, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। ফলে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা মানে সরাসরি মার্কিন কৌশলগত সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা।

Manual1 Ad Code

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ‘এসএম-৩’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে এই প্রতিরোধ সফল হলেও ইরান কৌশলগতভাবে একটি বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে—তাদের হামলার পরিধি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বিস্তৃত।

বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যভেদ নয়, বরং এই দূরবর্তী ঘাঁটিকে ‘হুমকির আওতায়’ আনা—এটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

Manual5 Ad Code

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে সামরিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বিস্তৃত হচ্ছে। এতে করে সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

তার মতে, ইরান সরাসরি সামরিক জয় নয়, বরং যুদ্ধের খরচ ও ঝুঁকির হিসাব বদলে দিতে চাইছে—যাতে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়ে।

এই ঘটনার ফলে:

উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েলকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভাবতে হবে

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে হতে পারে

যুদ্ধের বিস্তার ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে

সব মিলিয়ে, দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার এই প্রচেষ্টা প্রযুক্তিগতভাবে সীমিত হলেও ভূরাজনৈতিকভাবে তা বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Manual3 Ad Code

 

Manual8 Ad Code