আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের একজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর প্রচার করা হয়।
ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করা হলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান এই প্রস্তাবটিকে ‘অত্যধিক’ এবং ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মনে করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান কখন যুদ্ধ শেষ করবে তা নিজের শর্ত এবং সময় অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
বিগত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তান ও অন্যান্য কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এই ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠায়। ইরান এই প্রস্তাবকে কেবল আলোচনার একটি পথ হিসেবে দেখার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘একতরফা চাওয়া’ বলে অভিহিত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রু পক্ষকে কোনোভাবেই যুদ্ধের সমাপ্তির সময় নির্ধারণ করতে দেওয়া হবে না এবং শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা তুলে ধরেছে। প্রথমত, শত্রু পক্ষকে অবিলম্বে সব ধরনের ‘আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ড’ বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে যেন ইরানের ওপর পুনরায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সেজন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। তৃতীয়ত, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের পাওনা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, এই যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমান্তে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সবশেষ শর্ত হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে।
ইরানের উচ্চপদস্থ ওই কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে আলোচনার কথা বললেও তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, তেহরান শুধু একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের একটি স্থায়ী সমাপ্তি চায়। ইতিপূর্বেকার বিভিন্ন আলোচনা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এবার কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হবে না।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্বের দাবি বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানানো হয়েছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.