অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হতে না হতেই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি প্রতিবেশী দেশে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীও।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পর আবারও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছি মোজতবা খামেনির দেশ। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলী বাহিনীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরাক, কুয়েত ও কাতারে আজ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ করেছে ইরান।
রয়টার্সে প্রকাশিত তথ্য বলছে, বুধবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরাকে আমেরিকান স্বার্থের ওপর অব্যাহত নিরাপত্তা হুমকির কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, কাতার তাদের আকাশসীমায় ইরানের ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবকটি হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (কেপিসি) বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং পানি শোধনাগারে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগ এনে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলো আটকে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সাথে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, আজ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই ইরানের লাভান দ্বীপে একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়, যদিও এই হামলা কে চালিয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইরান। এরপর ইসরায়েল 'ইটারনাল ডার্কনেস' (চিরন্তন অন্ধকার) ছদ্মনামের একটি অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের ১০০টি স্থানে ১৬০টি বোমা হামলা করে ইসরায়েল।
এর আগে আজ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল জানিয়েছিল, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতিতে তারা সম্মত হলেও এই চুক্তির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছে ইসরায়েল।
এদিকে ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের শতুলা এবং পশ্চিম গ্যালিলি এলাকায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে। যদিও হিজবুল্লাহ আগে জানিয়েছিল যে তারা আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে, তবে ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে পড়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চের পর এটিই ছিল লেবাননে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.