অনলাইন ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অযোগ্যতার কারণে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং মানসিক অবস্থাকে দেশের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ব্রেনান স্পষ্ট করে বলেছেন, ট্রাম্পের মতো এক ব্যক্তিকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্বে রাখা নিরাপদ নয়। মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, শারীরিক বা মানসিকভাবে কোনো প্রেসিডেন্ট অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে সরিয়ে দেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত সেই সংশোধনীর সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ।
বারাক ওবামা প্রশাসনের সাবেক এই সিআইএ প্রধান গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।’ বিশেষ করে ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য জন ব্রেনানকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তিনি মনে করেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য লাখ লাখ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বেপরোয়া আচরণের পর ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে হলো বিশ্বের সামনে চরম বিপদ ডেকে আনা।
সাক্ষাৎকারে ব্রেনান আরও যুক্তি দেন যে, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীটি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো পরিস্থিতি বিবেচনা করেই লেখা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যাঁর হাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি যদি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তবে তার পরিণতি কী হতে পারে।
ব্রেনানের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্টের মানসিক অবস্থা এখন মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য এক বড় ধরনের থ্রেট বা হুমকি।
দীর্ঘদিন সিআইএ প্রধান হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করার অভিজ্ঞতার আলোকে ব্রেনান বলেন যে, একজন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্ত। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এর ঠিক উল্টোটি দেখা যাচ্ছে। ইরানি সংকটকে কেন্দ্র করে তিনি যেভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ব্রেনানের এই কড়া মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মার্কিন অনেক সংবাদমাধ্যম এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার সবচেয়ে কঠোর আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.