অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম এম নরবনে।
সাম্প্রতিক কিছু টানাপড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে এবং এর গতিপথ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (০৬ জুন) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছাড়াও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, ড্রোন যুদ্ধ এবং পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।
সাবেক এই ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কে সব সময়ই উত্থান-পতন থাকে। কোনো একটি মন্দাভাব বা নেতিবাচক পর্যায়কে সব সময় চূড়ান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সাধারণত একটি খারাপ সময়ের পরই আবার ইতিবাচক মোড় আসে। আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের গতিপথ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।’’
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল নরবনে জানান, এটি কোনো নতুন বিষয় বা আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সাথে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা। নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতির কারণে এই সীমান্তে বেড়া দেওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ।’’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের সীমানার যে অংশগুলো এতদিন বাকি ছিল, সেগুলোতে এখন দ্রুততার সাথে বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে পুরো সীমান্তকে একটি সুনির্দিষ্ট সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার প্রচেষ্টাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন জেনারেল নরবনে। তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তান কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনাকারী বা মধ্যস্থতাকারী দেশ নয়, তারা স্রেফ একটি ‘কুরিয়ার সার্ভিস’ হিসেবে কাজ করছে।’’
তিনি মন্তব্য করেন, পাকিস্তান নিজেকে বড় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও মূলত তারা দুই দেশের মধ্যে কেবল চিঠি ও বার্তা চালাচালির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই।
বিশ্বের চলমান যুদ্ধবিগ্রহ এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারতের সাবেক এই সেনাপ্রধান জাতীয় নিরাপত্তার সাথে অর্থনীতির গভীর সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতিই অন্য সবকিছুকে চালিত করে। বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা বা সাপ্লাই চেইনের সংকট তৈরি হয়, তা থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়। তবে ভারতের লক্ষ্য হচ্ছে নিজস্ব উৎপাদন বৃদ্ধি করে আত্মনির্ভরশীল হওয়া।’’
আধুনিক যুদ্ধকৌশল নিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক রণক্ষেত্রে ড্রোন বা চালকবিহীন আকাশযান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের তিন বাহিনীতেই (সেনা, নৌ ও বিমান) ব্যাপকহারে ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং এতে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.