আজ মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত

editor
প্রকাশিত জুন ৯, ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ণ
প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত

Manual4 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা এসআইপিআরআইয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির কয়েক দশকের নীতি থেকে বিশাল বিচ্যুতি। দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থা পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হতো।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রথম ভারতের অস্ত্রাগারকে মজুত রাখার পরিবর্তে কার্যক্রমের জন্য মোতায়েনকৃত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

এতে বলা হয়েছে, এই ১২টি নতুন মোতায়েন করা ওয়ারহেডের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রকে বহন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে সক্রিয় বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করেছে।

Manual8 Ad Code

এসআইপিআরআই বলেছে, গত বছর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে (এসএসবিএন) অল্প সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

সোমবার প্রকাশিত এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএসবিএনের সমন্বয়ে গঠিত পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা নিয়োজিত ছিল।

Manual3 Ad Code

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্রগুলো মোতায়েন করা লঞ্চার থেকে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে আসছে বলে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে রাখা এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার পদক্ষেপে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটি শান্তিকালীন সময়েই কিছু ওয়ারহেডকে তাদের লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করার দিকে অগ্রসর হতে পারে।

পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারত ‘আগে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে। ভারত প্রথমে পারমাণবিক হামলা না চালানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক অস্ত্র কেবল ভারতীয় ভূখণ্ডে বা যেকোনো স্থানে ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ভারতের ভাণ্ডারে সীমিত তবে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। এই সক্ষমতা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর জন্য নয়, বরং কেবল সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

Manual2 Ad Code

 

Manual8 Ad Code