অনলাইন ডেস্ক
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আগামী সপ্তাহে ভারত সফর করবেন। তিনি ২২-২৩ জুন রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের জাতীয় নিরাপত্তা উপেদেষ্টাদের (এনএসএ) বৈঠকে অংশ নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ খবর জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির পররাষ্ট্রবিষয়ক
কমিশন কার্যালয়ের পরিচালক ওয়াং ই আগামী সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতে ১৬তম ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।”
ওয়াং ই’র এই সফরটি হবে গত প্রায় এক বছরের মধ্যে তার প্রথম ভারত সফর। ওয়াংয়ের সর্বশেষ নয়াদিল্লি সফর ছিল গত বছর অগাস্টে, যেখানে তিনি ভারতের এনএসএ অজিত ডোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
গত মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ওয়াং যোগ দিতে পারেননি। কারণ,গত ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে ছিলেন।
ভারতীয় অনলাইন সংবাদপত্র‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষের পর দুইদেশের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
এরপর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে বর্তমানে দুই দেশ আস্থা গড়ার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে থাকার মধ্যেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং এই সফরে যাচ্ছেন।
২০২৪ সাল থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে। ওই বছর জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই একাধিকবার বৈঠক করেন।
পরে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি সমঝোতা ঘোষণা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার পথ সুগম করে।
২০২৪ সালের অক্টোবরেই রাশিয়ার কাজানে নগরীতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেন।
সেই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন কর্মপ্রক্রিয়া আবার সচল করার নির্দেশ দেন। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সীমান্ত বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অজিত ডোভাল চীন সফর করে ওয়াং ইর সঙ্গে আলোচনা করেন।
২০২৫ সালের অগাস্টে ওয়াং ইর ভারত সফরকালেও বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আরেকদফা বৈঠক হয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়।
এর মধ্যে রয়েছে- কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালু করা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করা, যা যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত বছর তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনেও বৈঠক করেন।
২০২৪ সালের পর সেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। চলতি বছর শেষের দিকে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠেয় এসসিও রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনেও উভয় নেতার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে আরও আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি সফরকালে ওয়াং ই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকও করতে পারেন।
বর্তমানে ১১ সদস্যের ব্রিকস জোটের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আছে ভারতসহ ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরান, ইন্দোনেশিয়া এবং সৌদি আরব।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.