অনলাইন ডেস্ক
ডালাসে শুধুই আরেকটি ফুটবল ম্যাচের অপেক্ষা নয়। এই রাত অপেক্ষা করছে এক মহারণের, এক নাটকের, এক অনিশ্চয়তার। একদিকে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপের সংগঠিত ও উদীয়মান শক্তি অস্ট্রিয়া। বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা দলের সামনে ২৪ নম্বর দল। কাগজে-কলমে ব্যবধান বড়। কিন্তু ফুটবল কখনো শুধু সংখ্যার খেলা নয়; এখানে মুহূর্তই বদলে দেয় গল্প। আজ রাত ১১ টায় গ্রুপ 'জে'-এর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটি গ্রুপের শীর্ষে ওঠার যুদ্ধ। ম্যাচটি যে দলই জিতবে, তারাই চলে যাবে নকআউট অর্থাৎ দ্বিতীয় রাউন্ডে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই দুর্দান্ত বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে যেন নিজেদের শক্তির ঘোষণা দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আর আর সেই সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এক চিরচেনা নাম লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি যেন সময়ের গতি অস্বীকার করে চলেছেন। তার পায়ে এখনো জাদু, চোখে এখনো স্বপ্নের আগুন। বল পায়ে নিলেই মনে হয়, সবকিছু থেমে গেছে, শুধু চলছে এক শিল্পীর সৃষ্টি। প্রতিটি স্পর্শে সৌন্দর্য, প্রতিটি দৌড়ে ইতিহাস।

তবে আর্জেন্টিনার শক্তি শুধু মেসিতে সীমাবদ্ধ নয়। গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তা, মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও এজো ফার্নান্দেজের ছন্দ, আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজের ক্ষুধা। সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনা যেন এক নিখুঁত অর্কেস্ট্রা। আর এই সুরের পরিচালক লিওনেল ভালোনি।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ পাবলো আইমারের মতে, দলের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রতিভা নয়। ঐক্য, বিশ্বাস শ্বাস এবং মানসিক প্রশান্তি। তিনি বলেন, 'স্কালোনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে সবাই নিরাপদ অনুভব করে। এই বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।' ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্কালোনি শুধু দল গড়েননি, বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার মানসিকতাও। সেই পরিবর্তনের পুরস্কার এসেছে ২০২২
বিশ্বকাপে, ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে।

তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। অস্ট্রিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কেবল অংশ নিতে আসেনি, লড়তে এসেছে। রালফ রাংনিকের দল শৃঙ্খলাবদ্ধ, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং পালটা আক্রমণে ভয়ংকর। সুযোগ পেলে আঘাত করতে তারা দ্বিধা করবে না। আইমারও সতর্ক করে দিয়েছেন, 'অস্ট্রিয়া আলজেরিয়ার মতো খেলবে না। তারা আরও বেশি শারীরিক শক্তি ও সংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে। আমাদের জন্য এটি কঠিন পরীক্ষা।' এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্র অবশ্যই মেসি। কারণ শুধু জয় নয়, তার সামনে অপেক্ষা করছে ইতিহাস ছোয়ার তিনটি সুবর্ণ সুযোগ।
'জে' গ্রুপের আরেক ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে জর্ডান ও আলজেরিয়া। সানফ্রান্সিসকোয় ম্যাচটি শুরু হবে মঙ্গলবার সকাল ৯টায়। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে। ফলে এই ম্যাচটি এখন শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, টিকে থাকার যুদ্ধ। হার মানেই প্রায় বিদায়ঘণ্টা, আর জয় মানে নকআউটের স্বপ্ন ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা। জর্ডান বিশ্বকাপের নবাগত। অন্যদিকে আলজেরিয়া অভিজ্ঞ, তবে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় হার তাদের চাপে ফেলে দিয়েছে। তাই এই লড়াইয়ে থাকবে স্নায়ুচাপ, আবেগ আর বাঁচার মরিয়া চেষ্টা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডান ৩-১ গোলে হেরেছে অস্ট্রিয়ার কাছে। তবে স্কোরলাইন যতটা একপেশে মনে হয়, ম্যাচটা ততটা ছিল না। জর্ডান কয়েকবার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ কাঁপিয়েছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে আর্জেন্টিনার কাছে। সুপারস্টার লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক বিধ্বস্ত হয় আফ্রিকার দলটি।
তবে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ মনে করেন, দলটি স্কোরলাইনের চেয়ে ভালো খেলেছে। এবার তাই জর্ডানের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। জর্ডান ও আলজেরিয়া এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। এতে দুই দলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। অপর ম্যাচ ড্র হয়। দল দুইটি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বমঞ্চে এবার হতে যাচ্ছে প্রথম সাক্ষাৎ।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.