অনলাইন ডেস্ক
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও থাকছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে সম্মেলন। এতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি অংশ নেবেন অংশীদার দেশগুলোর নেতারাও। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান পুতিন। ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার বাইরে আয়োজিত কোনো ব্রিকস সম্মেলনে এবারই প্রথম সশরীরে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্সে বলেন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে ‘বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ রয়েছে।
শুক্রবার বিকালে মোদি ও পুতিনের মধ্যে বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পুতিনের সঙ্গে রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও রয়েছে।
শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা শি জিনপিংয়ের। সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংসহ আরও কয়েকজন বিশ্বনেতা অংশ নেবেন।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ে আরও বড় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে ব্রিকস সদস্যরা যখন সক্রিয় হচ্ছে, তখন এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পুতিনের ভারত সফরে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও গুরুত্ব পেতে পারে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বিষয়টি দুই দেশ বিবেচনা করছে।
মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাকি থাকা এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের সময়সূচি এবং সু-৫৭-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নিয়ে সম্ভাব্য প্রস্তাবও থাকতে পারে।
১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল অধিবেশন শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত চলবে। পুতিন ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন এবং মোদির সঙ্গে ইনোপ্রম প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন।
সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লিতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং যান চলাচলেও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে ঘিরে সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেও এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রিত তারেক রহমান এসব পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো বিষয় নেতাদের আলোচনায় আসে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকেরা। সুএঃ টাইমস বাংলা
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.