ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলার পর বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে ভূমিকা রাখা পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ‘নায়ক’ বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিমানটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক যাত্রীর সাহসী ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ফ্লাইদুবাই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘পাইলটের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, আমার ধারণা এখনো তার অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু তিনি যে কাণ্ডজ্ঞান ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যিই বিস্ময়কর; এক অর্থে তিনি একজন বীর।’
Manual1 Ad Code
ট্রাম্প বলেন, মাচ্ছার তখন গুরুতর আহত অবস্থায়ও ককপিটের দরজা খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। এ কারণেই তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহুর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী বিমানটি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক যাত্রীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই যাত্রী পেশায় একজন প্লাম্বার এবং তার আগে কখনো বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল না বলে ট্রাম্প জানান।
ফ্লাইটটির পাইলট হিসেবে ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। সহ-পাইলটের হামলার পর তিনি ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানের অন্য ক্রুরা ককপিটে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে অতিরিক্ত পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
Manual1 Ad Code
ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই প্লাম্বার যাত্রী ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে আসন থেকে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিমান চালনার কিছু মৌলিক বিষয় তিনি টেলিভিশনের একটি বিমান দুর্ঘটনাবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে জেনেছিলেন বলেও ট্রাম্প দাবি করেন।
এরপর বিমানের পেছনের দিকে থাকা অতিরিক্ত পাইলট ও নিরাপত্তাকর্মীরা ককপিটে পৌঁছে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে। ঘটনায় আহত পাইলট মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
Manual5 Ad Code
তবে নিজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ঘটনাটির এই বিবরণ তিনি নেতানিয়াহু ও আরও কয়েকটি প্রাথমিক সূত্রের কাছ থেকে শুনেছেন। তাই সব তথ্য তিনি নিজে স্বাধীনভাবে যাচাই করেননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে সহ-পাইলটের হামলার পর দ্রুত উচ্চতা হারায়। যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটি তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত চলছে।