অনলাইন ডেস্ক
দীপাবলির আগের রাতে, শনিবার এক অপার্থিব রূপ নিল অযোধ্যা। উপলক্ষ দশম ‘দীপোৎসব’। একদিকে চোখধাঁধানো লেজার ও লাইট-অ্যান্ড-সাউন্ড শো, অন্যদিকে রামায়ণের নানা পর্বের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা- সব মিলিয়ে আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলার সাক্ষী থাকল শ্রী রামচন্দ্রের জন্মভূমি। সরযূ নদীর ৫৬টি ঘাটে এদিন একসঙ্গে জ্বলে উঠল ৩০ লাখেরও বেশি প্রদীপ। এই উৎসব দেখতে ঘাটগুলিতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
দীপোৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই চলছিল প্রস্তুতি। শনিবারের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বহু সাধু-সন্ত এবং বিশিষ্ট অতিথি। প্রভু রাম ও মাতা জানকীর পুজো ও আরতির মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক উদ্যাপন। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চোখধাঁধানো লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। আলোর সাজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গোটা শহরেই তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
https://twitter.com/i/status/2119070340995269051
সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন রামমন্দির ও অযোধ্যার বর্তমান রূপান্তরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বহু বছর পর একজন সন্ত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ পরিবারের পটভূমি থেকে উঠে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিগত ১২ বছর ধরে দেশকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অযোধ্যা কেবল একটি স্মার্ট সিটি বা সোলার সিটি নয়, এটি ভারতের আধ্যাত্মিক রাজধানী। রামমন্দির আজ গোটা হিন্দু সমাজের আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।”
অন্যদিকে, রামকথা পার্কে বিশাল জমায়েতে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাম ও জানকীর পুজো এবং আরতি করার পর তিনি অযোধ্যার বদলে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন। রাম জন্মভূমি আন্দোলনের দীর্ঘ লড়াই এবং করসেবক ও সাধু-সন্তদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি। বিরোধীদের একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “একটা সময় বলা হত অযোধ্যায় কোনও দিন বিমানবন্দর তৈরি হতে পারে না। আজ সেখানে মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে উঠেছে। যাঁরা একসময় রামভক্তদের অপমান করেছিলেন, তাঁদের উপর গুলি চালিয়েছিলেন এবং সাধু-সন্তদের ওপর লাঠিচার্জ করিয়েছিলেন, তাঁরা যদি কোনও দিন অযোধ্যায় পা রাখেন, তবে আগে ক্ষমা চাইতে হবে। রামভক্ত ও সাধুদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা ও প্রায়শ্চিত্ত করেই তবে তাঁদের এখানে আসা উচিত।”
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর ধনতেরাসের হাত ধরে অযোধ্যায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসব। ৭ নভেম্বর পালিত হচ্ছে ছোটি দীপাবলি। মূল দীপাবলি ও লক্ষ্মীপুজো অনুষ্ঠিত হবে ৮ নভেম্বর। এরপর ৯ নভেম্বর গোবর্ধন পুজো এবং ১০ নভেম্বর ভাইফোঁটার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই মেগা উৎসবের। তবে উৎসবের সূচনালগ্নেই ৩০ লাখ প্রদীপের আলোয় নতুন ইতিহাস লিখল রামলালার অযোধ্যা।সুএঃ দ্যা ওয়াল
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.