অনলাইন ডেস্ক:
বিশেষ নিরাপত্তা দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য করা আইন বাতিলের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
এছাড়া বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ আইনের সংশোধনী এনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিধান বাদ দেওয়ার বিলও পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই দফায় এ দুটি বিলসহ মোট ১৩টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সেই সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিলও রয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে বিলগুলো উত্থাপন, অবিলম্বে বিবেচনা এবং পরে কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এসব অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে এসব বিল আনা হয়েছে।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ২৪ দিনের মাথায় ২৯ অগাস্ট ‘বৈষম্যমূলক নীতি’ বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় প্রণীত আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় অধ্যাদেশটি।
‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬৩ নম্বর আইন এর দ্বারা রহিত করা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর এই আইনের গেজেট জারি হয়। পরে ২০১৫ সালের ২৫ মে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল, যা একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়েছিল বলে বিলে তুলে ধরা হয়েছে।
রহিতকরণ বিলের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ওই অধ্যাদেশও রহিত হবে। তবে অধ্যাদেশের অধীনে হওয়া কোনো কাজ বা গ্রহণ করা কোনো ব্যবস্থা এ আইনের অধীনে করা বা গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

ফাইল ছবি
দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী না থাকায় বিলটির দফাগুলোও কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। শেষে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এই বিলে ২০২১ সালের এসএসএফ আইনের কয়েকটি ধারা থেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের আইনের ২ ধারার দফা (খ) ও (গ) বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ ধারার উপধারা (১), (৩) ও (৪) এবং ৯ ধারার উপধারা (২) থেকে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের সদস্যগণ’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এসএসএফ সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদান-সংক্রান্ত বিধান বাতিল হয়েছে এবং ওই অধ্যাদেশের বিধান কার্যকর রাখা ও তা স্থায়ী আইনে রূপান্তর করাই এই সংশোধনের লক্ষ্য।
এই বিলে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত হবে। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে হওয়া কাজ বা গ্রহণ করা ব্যবস্থা বৈধভাবে হয়েছে বলে গণ্য হবে।
একই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। এ দুইটি বিলও পাস হয়েছে।
এর আগে দিনের প্রথম পর্বের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করে পাস করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে নোয়াখালী-৬ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ আপত্তি তুলে উপকূলীয় দরিদ্র জেলেদের স্বার্থের কথা তোলেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, কারেন্ট জাল ও বেন্দি জাল নিষিদ্ধ করাই এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য। পরে বিলটি পাস হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পক্ষে ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন।
বিলটি উত্থাপনের আগে তিনি বলেন, এই নামটি উচ্চারণ করাও তার জন্য ‘বিব্রতকর’, তবে বিলটি পাস হলে ভবিষ্যতে আর এই নাম শুনতে হবে না। পরে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
একইভাবে ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ও পাস হয়।
দিনের ওই অধিবেশনে ‘সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল, ২০২৬’ পাসের সময় বিরোধীদলীয় নেতা তুলনামূলক শিট দেরিতে হাতে পাওয়ার কথা বলে সময় চান। তবে স্পিকার জানান, আপত্তি জানানোর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ওই পর্যায়ে আর আপত্তি গ্রহণের সুযোগ নেই। পরে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। এটিও একই দিনে পাস হয়।
এ ছাড়া এদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, স্থানিক পরিকল্পনা বিল, পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি)(সংশোধন) বিল সংসদে পাস হয়।
তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.