অনলাইন ডেস্ক
যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় নীতিগত ও কৌশলগত বড় সিদ্ধান্তগুলো সুনির্দিষ্ট একটি ‘সাত সদস্যের অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী চক্র’ বা কিচেন কেবিনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো।
তাঁর অভিযোগ, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নিয়মিত গোপন বৈঠকে বসত এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ঠিক করত।
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, এই চক্রের সদস্যদের অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো।
তৌহিদ হোসেনের পাশাপাশি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও অন্তর্বর্তী সরকারে একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিজে ওই ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
ওই সাক্ষাৎকার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ জোরেশোরে আলোচনা চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিস্ফোরক বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে একটি অঘোষিত প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
কিচেন কেবিনেট কী: রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টাদের একটি ছোট বলয়কে বোঝায়। সাংবিধানিক বা আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা এ গোষ্ঠীটি আড়াল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সাধারণত এ ধরনের বলয়ে সরকারপ্রধানের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিকভাবে বিশ্বস্ত ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন, যাদের জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা থাকে না।
শব্দটির উৎপত্তি ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৩০-এর দশকে সপ্তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন তার আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার চেয়ে ব্যক্তিগত কিছু বন্ধু ও সাংবাদিকদের পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। সমালোচকেরা ব্যঙ্গ করে বলতেন, এই ব্যক্তিরা হোয়াইট হাউসের মূল দরজা ব্যবহার না করে পেছনের দরজা বা রান্নাঘরের পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। সেই থেকেই রাজনীতিতে এই ছায়া নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়।
তথ্য সুএঃ যুগান্তর
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.