প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও পেশাগত মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা যাতে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে পাঠদান করতে পারেন, সে জন্য তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় অনেক শিক্ষক সীমিত আয়ের কারণে আর্থিক চাপে রয়েছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার ধাপে ধাপে তাদের বেতন ও সম্মানী বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা অতিরিক্ত আয়ের জন্য অন্য পেশার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও বিকাশে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চলতি বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ হার বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করা।
অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিক্ষার উন্নয়ন হয় না। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৪ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগ শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।