অনলাইন ডেস্ক
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর রাজধানীর গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনেই উঠবেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। রোববার (২৫ জুলাই) তিনি সপরিবারে সেখানে উঠবেন বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ত্যাগের পর তিনি গুলশানের নিজস্ব বাসায় বসবাস করবেন। ইতোমধ্যে ওই বাসভবনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বাসাটিতে নতুন টেলিফোন সংযোগ স্থাপনসহ কিছু আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বঙ্গভবন ছাড়বেন তিনি। এরপর সরাসরি গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দিলেও, প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেও গুলশানের ওই বাসভবনেই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন মো. শাহাবুদ্দিন। দায়িত্ব ছাড়ার পর আবারও নিজের পরিচিত বাসভবনেই ফিরে যাচ্ছেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা, চলাচল এবং অন্যান্য প্রটোকল বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। গুলশানের বাসভবনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হতে পারে।
আজ পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি লেখেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ইতোপূর্বে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। যার ফলে তিনি, মাঝেমধ্যেই কিছু সময় অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি আরও লেখেন, এসব রোগের প্রাদুর্ভাব ও শারীরিক-মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.