প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৯, ২০২৫, ২:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ২৮, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পরকীয়ায় জীবন দিতে হলো সরস্বতীকে

তিমির বনিক:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মদনমোহনপুর চা বাগানে স্বামী ও তার পরকীয়া প্রেমিকার নির্যাতনের বলি হয়ে দুই সন্তানের জননী স্বরসতি রবিদাস (২৬) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বিশ্বজিৎ ও তার পরকিয়া প্রেমিকা মুন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মদনমোহনপুর চা বাগানের গাঙ্গ লাইনের শ্রমিক পাড়া এলাকার চা শ্রমিক মৃত হরিদাস এর ছেলে বিশ্বজিৎ দাস পারিবারিকভাবে অনুষ্টানের মাধ্যমে একই উপজেলার দলই চা বাগানের গগন রবি দাসের কন্যা স্বরসতী রবিদাস (২৬) কে প্রায় ৬ বছর পূর্বে বিয়ে দেন। তাদের ৬ বছরের সংসার জীবনে ২ বছরের একটি ছেলে ও ৬ মাস বয়সি এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহত স্বরসতীর মা কমলা রবিদাস, বড় বোন সুনিতা রবিদাস ও চাচাতো ভাই শিমুল রবিদাস জানান, তাদের সংসার জীবন ভালোভাবেই চলছিল, এক পর্যায়ে বিশ্বজিৎ দাস মাধবপুর চা বাগানের গোপাল বুনার্জীর স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী মুন্নী বুনার্জীর সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গত মে মাসে পরকীয়া প্রেমিকা মুন্নী বুনার্জীকে সামাজিকভাবে বিবাহ বহিভুর্তভাবে বিশ্বজিৎ এর মদনমোহনপুর চা বাগানস্থ বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে একই বাড়ীতে বিশ্বজিৎ ও তার ১ম স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ পরকিয়া প্রেমিকাকে নিয়ে বসবাস করতে থাকে। বসবাসকালীন সময়ে বিশ্বজিৎ ও তার প্রেমিকা মুন্নি বুনার্জী বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে স্বরসতীকে নির্যাতন করতো।
স্বরসতীর মা কমলা রবিদাস আরো বলেন, গত বুধবার (২৭শে আগষ্ট) রাতে বিশ্বজিৎ ও তার প্রেমিকা মুন্নি বুনার্জী নির্যাতনের শিকার হয়। মুমুর্ষ অবস্থায় স্বরসতীকে (স্বরসতীর) বাবার বাড়ী দলই চা বাগানে নিয়ে আসে। এসময় বিশ্বজিৎ বলেন, তার মেয়েকে নিয়ে আর সংসার করবে না। স্বরসতীর মা কমলা মেয়ের জামাই বিশ্বজিৎকে বুঝিয়ে রাতটুকু তার বাড়ীতে রেখে দেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮শে আগষ্ট) সকালে বিশ্বজিৎ একাই মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য স্বরসতীকে নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া। পরে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। বিশ্বজিৎ স্বরসতীকে চিকিৎসার জন্য অন্য কোন হাসপাতালে না নিয়ে মদনমোহনপুর চা বাগানের গাঙ্গ লাইনের শ্রমিক পাড়া এলাকার তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টায় স্বরসতী মারা যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ওসি শামীম আকনজি সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে। এই সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের স্বামী ও প্রেমিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
উপজেলার মাধবপুর ইউপি সদস্য মোতাহের আলী ও ইউপি সদস্যা মালতি রানী বুনার্জী বলেন, স্বরসতী ও বিশ্বজিৎ এর বিবাহ সামাজিকভাবেই হয়েছে। পরে আর কোন বিয়ের খবর পাইনি। তবে বিশ্বজিৎ এর চরিত্র ভাল ছিল না।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। মামলা দায়ের করা হলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2025 RED TIMES. All rights reserved.