তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
“ছেলেকে সিএসই পড়িয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ার বানাতে আমি নিজের জীবন শেষ করে দিলাম। আজ সেই ছেলে আর স্ত্রী মিলে আমাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার মতো ভুল আপনারা কেউ করবেন না, অন্ধের মতো কাউকে বিশ্বাস করবেন না।”
ছেলেকে সিএসই পড়িয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্নে নিজের জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন বাবা।
সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে—এই স্বপ্নে একজন বাবা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সম্পদ আর সামর্থ্য সবকিছু বিলিয়ে দেন। কিন্তু সেই সন্তানই যদি একদিন অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালের বেডে একা ফেলে চলে যায়, তার চেয়ে নির্মম কষ্ট আর কী হতে পারে?
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকার জাবের আহমেদের জীবনের এমনই এক হৃদয়বিদারক জীবন কথা সামনে এসেছে।
একসময় তিনি ছিলেন সচ্ছল ব্যবসায়ী। ছিল ব্যবসা, সম্পদ, গাড়ি ও মোটরসাইকেল। একমাত্র ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নে একে একে নিজের সম্পদ বিক্রি করেছেন। ছেলের সিএসই পড়াশোনার খরচ চালাতে ৬ লাখ টাকার গাড়ি, ৮ লাখ টাকার মোটরসাইকেলসহ নিজের সম্পদ ও সঞ্চয় হারিয়েছেন।
দিন-রাত পরিশ্রম করতে গিয়ে ২০১৭ সালে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্তও হন। তবুও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে থেমে যাননি।
কিন্তু আজ সেই বাবা অসুস্থ, নিঃস্ব ও অসহায়। চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর অভিযোগ—স্ত্রী ও ছেলে তাঁকে হাসপাতালের বেডে একা রেখে চলে গেছেন।
চোখের পানি মুছতে মুছতে তাঁর কণ্ঠে উঠে এসেছে এক অসহায় বাবার আর্তনাদ।
একজন বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে—সন্তান একদিন মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা যদি সন্তানের হৃদয়ে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা তৈরি না করে, তাহলে সেই শিক্ষার সার্থকতা কোথায়?
যে বাবা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ সেই বাবারই যদি ঔষধ কেনার টাকা না থাকে, থাকার মতো ঘর না থাকে—তাহলে এটি শুধু একজন পরিবারের গল্প নয়, আমাদের সমাজের জন্যও এক গভীর প্রশ্ন আগামীতে পরবর্তী প্রজন্ম কি শিক্ষা নিচ্ছে এর থেকে সামাজিক অবক্ষয় হবার দূর্বার গতিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.