অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাকে একটি প্রত্যাশার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক আশঙ্কার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আশঙ্কাটা হলো সুদীর্ঘ ইতিহাস সত্ত্বেও আমাদের 'জাতি-গঠন' প্রক্রিয়া এখনও অসমপূর্ণ রয়েছে। স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যার মাধ্যমে যে বিভক্তির সূচনা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃতির কারণে তা আজও বিদ্যমান। এই অনৈক্যের সুযোগেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। আমি আশা করেছিলাম, তারেক রহমান ইতিহাসের প্রতি সৎ থেকে এই বিভক্তি দূর করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবেন। আমার এই চাওয়াটাকে অনেকের কাছে অতি চাওয়া বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এটা তো সত্য যে, ইতিহাস আড়াল করার রাজনীতি জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয়। আজকের বাংলাদেশে সেই আশঙ্কাজনক চিত্রই দৃশ্যমান।
একাত্তরের মার্চের ইতিহাস বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের কথাও উহ্য রাখা হয়েছে। ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনেও বাধা দেওয়া হয়েছে, ঐতিহাসিক ওই বাড়িটিতে ফুল দিতে যাওয়া যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুল্য, সেখানে ফুল দিতে যাওয়া মানুষজনকে সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সচেতনভাবে আড়াল করা হচ্ছে স্বাধীনতার মূল প্রেরণা ৭ই মার্চের ভাষণকে। ইতিহাসের এই বিচ্যুতি, রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিচ্ছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এসব করে একটি জাতির ‘সামষ্টিক স্মৃতি’ ভুলিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: আরফাতুল ইসলাম নাইম
ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: আরফাতুল ইসলাম নাইম

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে ‘সামষ্টিক স্মৃতি’ (Collective Memory) বলে যে ধারণাটি প্রচলিত আছে, সেটি প্রথম সুসংগঠিতভাবে ব্যাখ্যা করেন ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী মরিস হালবভাখস। তার মতে, জাতির ইতিহাস কেবল বইয়ে নয়, মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতে বেঁচে থাকে। ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রায়ই ইতিহাস অস্বীকার না করে তার কেন্দ্রীয় চরিত্রকে আড়াল করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ঘিরে চলমান অস্বীকারের রাজনীতিও সেই সমষ্টিগত স্মৃতি বদলে নতুন ও বিকৃত বয়ান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারই উদাহরণ। পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের স্মৃতিচারণ, পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের লেখা, আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রতিবেদন, সবই একই ঐতিহাসিক সত্যের দিকে নির্দেশ করে। তাই আজকের লেখাটি মূলত পাকিস্তানিদের লেখায় ৭ই মার্চের ভাষণকে যেভাবে দেখা হয়েছে, সেই দেখা দিয়ে সাজানো হয়েছে।
জেনারেল নিয়াজীর পিআরও সিদ্দিক সালিক (Witness to Surrender) আর জেনারেল ফজল মুকিম খান (Pakistan’s Crisis in Leadership) বইতে ৭ই মার্চকে সরাসরি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন; তাদের বর্ণনায় স্পষ্ট, সেদিন থেকেই তারা ঢাকায় ‘কার্যত বাঙালির হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া’ অনুভব করেন এবং সামরিক সমাধানের প্রস্তুতি জোরদার করেন। এসব লেখায় ৭ই মার্চের ভাষণকে তারা আইনি অর্থে স্বাধীনতার ঘোষণার চেয়ে বেশি ‘ডি-ফ্যাক্টো বিদ্রোহের সিগন্যাল’ হিসেবে দেখায়, অর্থাৎ এরপরই ঢাকায় ও ক্যান্টনমেন্টে সামরিক পরিকল্পনা বদলে যায়, আক্রমণের টাইমিং এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।
সালিক তার বইতে ৭ই মার্চের ভাষণের রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। তার মতে, “It was not a formal declaration of independence, but it clearly pointed towards the direction in which the Awami League intended to move.” অর্থাৎ ভাষণটি সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না হলেও এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলন কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানি সামরিক মহলের এই উপলব্ধিই পরে ২৫ মার্চের সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়।
বিভিন্ন কারণে একাত্তরের গণহত্যা বাস্তবায়নকারী সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত ও আলোচিত নাম সম্ভবত রাও ফরমান আলী। তিনি তার বইয়ে (How Pakistan Got Divided) এবং পরবর্তীকালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ৭ই মার্চকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মোড় হিসেবে দেখান। তার মতে, ওই ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানে বেসামরিক প্রশাসন কার্যত শেখ মুজিবের নির্দেশ মানতে শুরু করে এবং সামরিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের ‘ঘেরাও’ অবস্থায় অনুভব করে। এই পরিস্থিতিকেই তিনি অপারেশন সার্চলাইটের যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তার যুক্তি ছিল, শেখ মুজিবের ভাষণ ও পরবর্তী আন্দোলন সামরিক সমাধানকে ‘অনিবার্য’ করে তোলে। অর্থাৎ তিনি পরবর্তী আন্দোলনকে এমন এক ‘হুমকি–পরিস্থিতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যার জবাবে সামরিক দমন ও গণহত্যাকেই তিনি প্রি-এম্পটিভ পদক্ষেপ হিসেবে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অন্যান্য পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের স্মৃতিচারণেও ৭ই মার্চের ভাষণের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা তার স্মৃতিকথা (A Stranger in My Own Country) লিখেছেন, “After Sheikh Mujib’s speech of 7 March, the authority of the central government in East Pakistan had virtually collapsed.” অর্থাৎ ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সরকারের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কার্যত ভেঙে পড়ে এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে।
৭ই মার্চের ভাষণের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝার জন্য পাকিস্তানি সামরিক পরিকল্পনার দিকে তাকালেই একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়া পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহির আলম খানের স্মৃতিচারণে উল্লেখ আছে যে, সেই অভিযানে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারের জন্য একটি বিশেষ কোড ব্যবহার করা হয়েছিল, ‘Big Bird’। জেনারেল টিক্কা খান এই কোড ব্যবহার করে নির্দেশ দেন যে অপারেশনের মূল লক্ষ্য হলো শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সেই অভিযানে অন্য কোনো বাঙালি রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তারের জন্য একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এই তথ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি দেখায় যে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্ব খুব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিল, পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ই মার্চের ভাষণের পর বাঙালির রাজনৈতিক আনুগত্য যে তার দিকেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে, তা পাকিস্তানি সামরিক পরিকল্পনাতেও প্রতিফলিত হয়েছিল। ফলে ২৫ মার্চের সামরিক অভিযানের প্রথম লক্ষ্য হয়ে ওঠে সেই ব্যক্তিকে আটক করা, যিনি কার্যত বাঙালিদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। ৭ই মার্চে যে কণ্ঠ একটি জাতিকে সংগ্রামের পথে আহ্বান করেছিল, ২৫ মার্চে পাকিস্তানি সামরিক পরিকল্পনার প্রথম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সেই কণ্ঠকে নীরব করা।
এই পর্যায়ে শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের একজন ডালিমের বক্তব্য বিবেচনায় নিতে চাই। ডালিমের বই ‘যা দেখছি, যা বুঝেছি, যা করেছি’ থেকে একটি উদ্ধৃতি দেওয়া যায়। ৭ই মার্চের ভাষণের যে প্রভাব নিয়ে পাকিস্তানীরা চিন্তিত ছিলেন সেই একই মতামত পাওয়া যায় ডালিমের বক্তব্যে। ৭ই মার্চের প্রভাব নিয়ে ডালিম বলেন, “বাংলাদেশকে পরিচালিত করার জন্য শেখ মুজিব ৩১ টি আদেশ জারি করেন। সরকারি, আধা-সরকারী সমস্ত অফিস বন্ধ থাকবে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। দুই অংশের মধ্যে কেবল টেলিফোন, টেলেক্স এবং ওয়্যারলেসের যোগাযোগ বহাল থাকবে৷ এভাবে স্বাধীনতার চেতনা ক্রমশ বাস্তব আকার ধারণ করতে শুরু করে।” ডালিম যদি মুজিবের এই মূল্যায়ন দেন তবে স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতি সংবেদনশীল মানুষের বিবেচনাটি কেমন হওয়া উচিত সেটি নাহয় পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিলাম।
জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্মৃতিকথায় (The Great Tragedy) ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে আলাদা অধ্যায় নেই, তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া যায়। ভুট্টো লিখেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবের দাবিগুলো নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব হলেও সমাধান হতে হবে পশ্চিম পাকিস্তানের সম্মতি ও সমগ্র পাকিস্তানের স্বার্থ বিবেচনায়। এতে বোঝা যায়, ৭ই মার্চের পর মুজিবের অবস্থান পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে দূরবর্তী হয়ে ওঠে। ভুট্টো ৭ই মার্চ পরবর্তী পূর্ব বাংলার অসহযোগ আন্দোলনকে ‘উত্তেজিত জনতার প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং মনে করেন, ভাষণের অন্তর্নিহিত বিদ্রোহী সুরই জনতাকে উদ্দীপ্ত করেছিল। তার অভিযোগ ছিল, মুজিব একদিকে পাকিস্তানের ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে এমন রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছিলেন যা বিচ্ছিন্নতার পথ প্রশস্ত করেছিল।
৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব বোঝার জন্য পাকিস্তানি রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ২৫ মার্চ রাতে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বেতার ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তোলেন এবং আন্দোলনকে পাকিস্তানের ঐক্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন। এতে বোঝা যায়, তিনি ৭ই মার্চের ভাষণকে পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিলেন। ভাষণের পরই পূর্ব পাকিস্তানে কার্যত মুজিবের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে ইয়াহিয়ার ভাষণ ছিল সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা। ৭ই মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংকেত আর ২৫ মার্চ ছিল সেই সংকেতের প্রতি পাকিস্তানি রাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া।
পাকিস্তানের পরাজয়ের পর গঠিত হামিদুর রহমান কমিশনের তদন্তেও দেখা যায় যে পূর্ব পাকিস্তানের সংকটকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মূলত শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছিল। কমিশনের সামনে ইয়াহিয়া খান স্বীকার করেন যে আওয়ামী লীগের আন্দোলন পাকিস্তানের ঐক্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল এবং ৭ই মার্চের ভাষণ এই আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক উৎসে পরিণত হয়। এই উপলব্ধির কারণেই ২৫ মার্চের সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মুজিবকে গ্রেপ্তার করা। এতে স্পষ্ট হয় যে পাকিস্তানি রাষ্ট্র বুঝেছিল, পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে একজন নেতাই দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার নেতৃত্বেই বাঙালিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সংগঠিত হচ্ছিল।
আমার আজকের লেখার সর্বশেষ উদ্ধৃতিটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা থেকে নেওয়া। পাঠকরা বুঝবেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান জিয়ার বক্তব্যটি এখানে কেন দেওয়া হলো। ১৯৭৪ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় জিয়াউর রহমান ‘একটি জাতির জন্ম’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিকে চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিল এবং তিনিসহ তার সহকর্মীরা স্বাধীনতাযুদ্ধের গ্রিন সিগন্যাল পান। তার মতে, এই ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সংগঠিত রূপ পায় এবং জাতি মুক্তিযুদ্ধের পথে অগ্রসর হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি অর্জন করে।
ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্লিখনের চেষ্টা বহু দেশেই হয়েছে; কিন্তু প্রামাণ্য দলিল, গণস্মৃতি আর প্রত্যক্ষ সাক্ষীর বয়ানকে কখনো মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। গণমানুষের ‘সামষ্টিগক স্মৃতি’ কোনো সাময়িক রাজনীতির ছাঁচে বন্দি করা যায় না। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ক্ষেত্রেও এই চিরন্তন সত্যটিই প্রযোজ্য। কখনো যদি এই ভাষণ মাইকে বাজাতে বাধা দেওয়া হয়, যেমন এবার ৭ মার্চে বাধা দেওয়া হয়েছে ইমি ও তার সঙ্গীদের, তখন জাতির মনে বাজবে সেই ভাষণ। মনের ওই প্রতিধ্বনি স্তব্ধ করার শক্তি কোনো রাষ্ট্রযন্ত্রের নেই।
তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.