পঞ্চগড়ে নির্বাচনের পরের দিনই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা
পঞ্চগড়ে নির্বাচনের পরের দিনই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরের দিনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার পরিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।
আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয় খুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
Manual1 Ad Code
ভিডিওতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, ‘সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান প্রথমের যে কাজটি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালামুক্ত অবমুক্ত করেছেন।’
Manual3 Ad Code
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের নামে মিথ্যে মামলা হয়েছে। সেখান থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয়, এই অনুরোধ জানাচ্ছি আমার মামা আবু দাউদ প্রধানের কাছে।’
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ ছিনিবিনি খেলার চেষ্টা করে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরাজিত শক্তিকে আবারও নস্যাৎ করবো। দলমত নির্বিশেষে সবাই আমরা এলাকায় থাকতে চাই।’
Manual4 Ad Code
এসময় বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি জানলাম আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দেওয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার উভয়পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যার কারণে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি সারা বাংলাদেশে। আমি উভয় দলের নেতাকর্মীদের বলবো, প্রত্যেক দলে কমবেশি দুষ্ট প্রকৃতির লোক আছে। তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের নিষেধ আছে আমাদের। কোনো অবস্থাতেই আমাদের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা কেউ যেন ভঙ্গ করতে না পারে।’
Manual6 Ad Code
ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভাইদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক আপনারা। আপনারা কোনো প্রকার অন্যায় করবেন না। আপনাদের গায়ে কেউ যদি কোনো আঁচড় দেয় আমাকে জানাবেন। কোনো অন্যায়কারীকে আমি প্রশ্রয় দেবো না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ‘অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে খুলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বসবো। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না।’
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ না করে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্যই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়েছি। এর আগে জামায়াত এই অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল।’