স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে যেভাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেল, শেষ সময় পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বাধ্য করল, তা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে বেশ।
৩-২ গোলে কোনোরকমে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে গেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে এমন পারফরম্যান্সে প্রশ্ন উঠছে চারদিকে। ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার এক্সজি বা প্রত্যাশিত গোল ছিল ২.১৬, কেপ ভার্দের মাত্র ০.৪৬। অর্থাৎ সুযোগের বিচারে আর্জেন্টিনাই ছিল ঢের এগিয়ে, তবু মাঠের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ঠিক কী কী কারণে এমন অবস্থা হলো আর্জেন্টিনার? চলুন জেনে নেওয়া যাক—
১. কেপ ভার্দের রক্ষণের গঠন
এই ম্যাচের আগেই কেপ ভার্দে গ্রুপপর্বে স্পেনের সঙ্গে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তারা রক্ষণে দারুণ সংগঠিত ছিল, গোলরক্ষক ভোজিনিয়া একের পর এক দুর্দান্ত সেভ দিয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। সঙ্গে দলটির রক্ষণের গঠনও ছিল চোখে পড়ার মতো। আর্জেন্টিনাকে মাঝমাঠ দিয়ে বল নিয়ে ঢুকতেই দেয়নি কেপ ভার্দে।
২. আর্জেন্টিনার আত্মতুষ্টি ও কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তা
ম্যাচের প্রথমার্ধে মেসির একক নৈপুণ্যে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা যেন গা বাঁচিয়ে খেলার কৌশলে চলে যায়, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা থেকে। কিন্তু এই ঢিলেমির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় কেপ ভার্দে, যারা একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে। ফল হিসেবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এদিকে কেপ ভার্দে ম্যাচটা খেলেছে পুরোপুরি উল্টো মেজাজে। প্রতিটি গোল হজম করার পরও তারা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে বরং আরও তেতে উঠেছে এই মানসিক দৃঢ়তাই তাদের খেলাকে অসম্ভব কঠিন করে তুলেছিল আর্জেন্টিনার জন্য।
৩. রক্ষণের দুর্বলতা
আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে একাধিকবার রক্ষণে ভুল করেছে। কেপ ভার্দের প্রথম গোলটি আসে দারুণ বিল্ড-আপ থেকে, যেখানে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ফাঁকা জায়গা তৈরি করে ফেলে। সঙ্গে একের পর এক ঢিলেঢালা পাস কেপ ভার্দের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছিল কিছুক্ষণ পরপরই।
৪. তীব্র গরম ও শারীরিক ক্লান্তি
যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়ায় খেলতে হয়েছে এই ম্যাচ। যে কারণে আর্জেন্টিনার একাধিক খেলোয়াড়কে পেশিতে টান ধরতে দেখা যায়।
৫. মাঝমাঠের অফ ফর্ম
অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের সবাই একসঙ্গে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন যেন। যাদের দুইজন নিয়মিত থাকছেন শুরুর একাদশে। আর সে কারণেই মূলত মিডফিল্ডের ধার কমে গেছে অনেকখানি। যে কারণে আক্রমণের জন্য আর্জেন্টিনাকে লংবল বা সেটপিসের মতো বিষয়গুলোকে আকড়ে ধরতে হয়েছে আজ।
শেষ কথা পরিসংখ্যান যতই আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলুক, মাঠের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে দেখিয়ে দিল ফুটবলে ছোট দল বলে কিছু নেই, থাকে শুধু সংগঠন, সাহস আর বিশ্বাস। আর্জেন্টিনা এবার বেঁচে গেল ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু; বিশেষ করে পরের রাউন্ডে যদি তারা এই ধরনের ঢিলেঢালা মানসিকতা নিয়ে খেলে, তাহলে ভুগতে হতে পারে আরও কঠিনভাবে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.