মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার, ৪ জানুয়ারি:
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন রোববার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
সকাল থেকে সংগঠনটির সভাপতি জাফর ইকবালের নেতৃত্বে সাংবাদিকরা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের প্রশিক্ষণস্থলের পাশে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, শ্রম অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণকারী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পিআইবির আয়োজনে ৪ ও ৫ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের বিভক্ত দুটি গ্রুপ থেকে ১৫ জন করে মোট ৩০ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা থেকে ২১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
প্রতিবাদের পর অংশগ্রহণের সুযোগ
অবস্থান কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের ছয়জন সদস্যকে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সংগঠনটির সভাপতি জাফর ইকবাল জানান, ভবিষ্যতে ঢাকায় আরও ১০ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সংগঠনকে বিভিন্ন সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উপেক্ষা করা হচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমরা অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছি।”
প্রেসক্লাবের প্রতিক্রিয়া:
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুল বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
“আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় না করেই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
অন্যান্য জেলাতেও অভিযোগ
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সিলেটেও। সিলেট প্রেসক্লাবে পিআইবির আয়োজনে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালাকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব বর্জন করেছে বলে জানা গেছে। সেখানে অংশগ্রহণ বাছাইয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা।
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম সরকার মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের অবস্থান কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পিআইবির প্রশিক্ষণে বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানান।
এছাড়া একাধিক সাংবাদিক মন্তব্যে বলেন, পিআইবির মতো রাষ্ট্রীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের আয়োজন করা কর্মশালায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকৃত সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার না দিয়ে এমন কিছু ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যারা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করলেও বাস্তবে পেশাদার সাংবাদিক নন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এসব মন্তব্যে আরও বলা হয়, অযোগ্য ও অপ্রাসঙ্গিক অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা প্রশিক্ষণের সামগ্রিক সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সাংবাদিকরা মনে করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং পেশাগত যোগ্যতা যাচাই অপরিহার্য।
এই বিষয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালাগুলো সাধারণত ভোটের সময় দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। তবে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকলে এসব প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.