ক্রীড়া ডেস্ক:
দীর্ঘ দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানকে আবারও ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এত দিন দেশের বাইরে থাকা সাবেক এই অধিনায়ককে আসন্ন সিরিজগুলোতে খেলার জন্য বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
বিসিবির লক্ষ্য, আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই সাকিবের প্রত্যাবর্তন ঘটানো। ২০২৪ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ ম্যাচ খেলার পর থেকেই আলোচনার বাইরে ছিলেন সাকিব। একই বছরের আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরতে না পারায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কার্যত থমকে যায়।
এর আগে তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলে বিদায় নিতে চাইলেও, তার নামে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এবং গ্রেপ্তার–আতঙ্কের কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন আগের বোর্ড থেকেই সাকিবকে ফেরানোর চেষ্টা চললেও তা সফল হয়নি। বর্তমান বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামের সময়েও বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল। অবশেষে ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সাকিবকে ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানান, ফর্ম ও ফিটনেস সন্তোষজনক হলে সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় নিতে পারবেন নির্বাচকেরা। বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবর জানান, এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিসিবি সভাপতি।
সাকিবের প্রত্যাবর্তনের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আসিফ আকবর বলেন, ‘বোর্ড সভাপতি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। আমরা আশাবাদী, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই সাকিবকে আবার জাতীয় দলে দেখা যাবে।’
এই পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই কি সাকিব আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে আসিফ আকবর বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো তাকে আবার দেশের হয়ে খেলতে দেখা। এরপর সে কত দিন খেলবে, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’
পাকিস্তান দল মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে। এরপর পিএসএল শেষ করে মে মাসে আবার ফিরবে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে থেকেই সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক জানান, ‘সে খুবই আগ্রহ দেখিয়েছে হয়তো সরকারে কিছু পরিবর্তন আসায়। সে জন্যই হয়তো সে আত্মবিশ্বাসী, এবার বললে কিছু হতে পারে।’
বিসিবিও মনে করে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিবের অবদান বিবেচনায় তাকে দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। যদিও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তবে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সরকারের বাইরে থাকায় আগের মতো বড় রাজনৈতিক বাধা থাকবে না বলে ধারণা বোর্ডের।
বর্তমানে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বেও থাকায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে বলে মনে করছে বিসিবি। সরকারের মনোভাবও আগের চেয়ে ইতিবাচক বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল স্বল্প হওয়ায় প্রক্রিয়াটি কতটা দ্রুত এগোবে—এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বোর্ড আশাবাদী। এক পরিচালক বলেন, ‘মার্চের আগে এখনো যথেষ্ট সময় আছে। প্রক্রিয়া শুরু করতে তো সমস্যা নেই। এমনও তো হতে পারে, নির্বাচনের পর কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে।’
এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত সাকিব আল হাসান আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, তিনি আবার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান। সরকারের সঙ্গে বিসিবির আলোচনার মাধ্যমে দেশে ফেরা ও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ তৈরি হবে—এই আশায় পাকিস্তান সিরিজকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডার।
তথ্য সুএঃ বার্তা বাজার
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.