অনলাইন ডেস্ক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) শেষ হয়েছে গত ৩ ফেব্রুয়ারি। এই পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের ৬৯ হাজার ২৬৫ জন পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে রেকর্ড গতির এই নিয়োগ ঘিরে ডিজিটাল জালিয়াতির যে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীরা করেছিলেন, মৌখিক পরীক্ষায় তার সত্যতা মিলেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশ হওয়ার পর প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট dpe.gov.bd অথবা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd-এ লগইন করে তাদের ফল (Check Result by Roll Number) দেখতে পারবেন। এছাড়া উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মোবাইলে টেলিটকের মাধ্যমে এসএমএস (Primary Result SMS Notification) পাঠিয়েও জানিয়ে দেওয়া হবে।
নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে শুরু থেকেই ডিজিটাল জালিয়াতির যে জোরালো অভিযোগ ছিল, মৌখিক পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে। দিনাজপুরে ভাইভা বোর্ডে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে ধরা পড়েছেন ১১ জন প্রার্থী। গত ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসে তাঁরা আটক হন।
আটক প্রার্থীদের একজন ঘোড়াঘাট উপজেলার গোলাম রাফসানী। ভাইভা বোর্ডে তাঁকে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকেই সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এতে সন্দেহ হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাবিবুল হাসান। একপর্যায়ে রাফসানী স্বীকার করেন, ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে তাঁর হয়ে ফয়সাল আহমেদ নামের একজন লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন। একইভাবে ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে আটক হন বিরল উপজেলার মানস চন্দ্র রায়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একে একে ১১ জন অপরাধ স্বীকার করেন। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে শিক্ষা অফিসের কর্মচারী ও শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।
বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বড় ধরনের শিক্ষক সংকট চলছে। এবারের নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লড়ছেন। দ্রুত ফল প্রকাশের কারণ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ১৪ হাজার ৩৮৫টি সহকারী শিক্ষকের পদের পাশাপাশি ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনের নিরিখে জরুরি ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে, এখানে অধিদপ্তরের আলাদা কোনো অভিসন্ধি নেই।’
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন অংশ নেন। রেকর্ড গতির এই নিয়োগে মাত্র ১২ দিনের মাথায় ২১ জানুয়ারি ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হন। এর এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুরু হয় মৌখিক পরীক্ষা। তবে নিয়োগে ডিজিটাল জালিয়াতি, সার্টিফিকেটের নম্বর বাতিল ও ভাইভায় ‘পাস-ফেল’ পদ্ধতি প্রবর্তন নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.