বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ ১৯৬৭ সালের ২৯শে নভেম্বর আত্মপ্রকাশ করে মহান স্বাধীনতার পর ৫টি অঞ্চলে বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসবাসরত এলাকা ও ইটালীতে ১ টি সহ সর্বমোট ২৯ টি অঞ্চল ও শাখায় বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব প্রফেসর সরোজ বড়ুয়া বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান চিন্ময় বড়ুয়া রিন্টুর সমন্বিত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্মতৎপরতা ও বিভিন্ন উদ্যেগে পরবর্তীতে সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড ও সীমান্ত বড়ুয়া, সিলেট অঞ্চলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক উৎফল বড়ুয়া, সৈয়দ বাড়ি শাখার সভাপতি পাপেল বড়ুয়া সহ সব অঞ্চলের প্রগতিশীল যুব নেতৃবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান ও অনুকরণীয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ বাংলাদেশে ২৮ টি ও ইটালী তে ১ অঞ্চল সহ মোট ২৯ টি অঞ্চল ও শাখায় বিস্তৃত হয়ে সর্ববৃহৎ বাংলাদেশী বৌদ্ধ যুব সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। আরো উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের নিরবিচ্ছিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি হিসেবে বহির্বিশ্বে বসবাসকারী বাংলাদেশী বৌদ্ধ যুবকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয় যার ফলশ্রুতিতে ফ্রান্স ও আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি বৌদ্ধ যুবকদের সমন্বয়ে আরো দুটি অঞ্চল ২০২৬ সালের প্রাক্কালে উদ্বোধন এর প্রতীক্ষায়।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের এবারের ৫৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনাড়ম্বরভাবে ২৯শে নভেম্বর শনিবার ২০২৫ ইং সালে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ এর বিভিন্ন অঞ্চল ও শাখায় দিনব্যাপী বিভিন্ন সমাজকল্যাণ মুলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ৫৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের বিভিন্ন অঞ্চল ও শাখা আয়োজিত বিভিন্ন ধরনের সামাজিক , সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, শিক্ষা বিস্তারে অনিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি পাঠাগার চট্রগ্রাম অঞ্চলের স্থায়ী অফিসে উদ্ভোধন ও শীতার্ত জ্ঞাতিদের শীতবস্ত্র বিতরণ এর মাধ্যমে উদযাপন করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হৃদয়গ্রাহী।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, WFBY – The World Fellowship of Buddhist Youths এর প্রথম affiliated বাংলাদেশী বৌদ্ধ যুব সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত ও বর্হিবিশ্বে বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলো ও সেসব দেশের নেতৃত্বস্থানীয় বৌদ্ধ সংগঠন এর সাথে সৌভ্রাতৃত্ব গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং এসব কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি WFBY এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হই। এছাড়াও WAB – The World Alliance of Buddhist এর প্রতিষ্ঠাকালে WAB এর গঠনতন্ত্র প্রণয়নে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ এর প্রতিনিধি হিসেবে আমার WAB প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সহ সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়। আরো উল্লেখ্য WFBY এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও WAB এর প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৌদ্ধ সম্মেলনে নূন্যতম ২ জন সহ ৩০ জনের বৌদ্ধ যুব প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ বৌদ্ধ সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষমতা অর্জন করে।
সর্বশেষ ৮-২০ নভেম্বর জাপানে ১০ জন, থাইল্যান্ডে ৪ জন ও ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৩ জনের প্রতিনিধি দল সক্রিয় অংশগ্রহণ শেষে দেশে প্রত্যাগমন করেন।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী যুবকদের জন্য একমাত্র স্বতন্ত্র, সর্বপ্রাচীন, অরাজনৈতিক, প্রগতিশীল সংগঠন হিসেবে সক্রিয় থেকে নিকায়, জাতি, বর্ণ-গোত্র বিবর্জিত সর্বপ্রচীন বৌদ্ধ যুব সংগঠন আজকে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের প্রানের সংগঠন যা বৌদ্ধ বিহার এর বাইরে থেকে সমাজ ও স্বধর্ম সংস্কারে ৫৯ বছরে এসেও পিছিয়ে পড়া জ্ঞাতিদের শিক্ষায়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, সহমর্মিতা সহ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে জন্মলগ্ন থেকেই অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে যা সর্বজন স্বীকৃত।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ দেশের বৌদ্ধ যুবকদেরকে সংঘবদ্ধ করে তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে কাজ করে।
প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. বৌদ্ধ যুবকদের মধ্যে সংহতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলা।
২. বৌদ্ধ ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতি চর্চা এবং প্রচারে উৎসাহিত করা।
৩. বৌদ্ধ যুবকদের শিক্ষা, বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা উন্নয়ন ও নেতৃত্ব গঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা।
৪. সামাজিক সমস্যা (যেমন: মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ) প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করা।
৫. বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামাজিক সংকটে জাতি বর্ণ- ধর্ম নির্বিশেষে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
৬. দেশের সকল নাগরিকের সাথে সম্মান ও সম্প্রীতির সহাবস্থানকে উৎসাহিত করা।
কার্যক্রম: বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যেমন:
· বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ধর্মীয় উৎসব সফলভাবে আয়োজন।
· শিক্ষা উপবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ।
· রক্তদান কর্মসূচি ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান।
· বন্যা/ঘূর্ণিঝড় প্রবন এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন তৎপরতা।
· দেশে- বিদেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।
· পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত কার্যক্রম যেমন ফলজ ও বনজ বৃক্ষ বিতরণ,রোপণ, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা, সকল প্রকার প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা, গৃহহীন জ্ঞাতিদের গৃহ দান ইত্যাদি ।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ সামাজিক আন্দোলন ও সকল যুবক ও নবীন প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা ও মৈত্রী করূণা, মুদিতা, উপেক্ষা সহ দান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে ৫৮ বৎসর পর বর্তমান বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ নেতৃবৃন্দের সক্রিয় তৎপরতায় ১১২ জন বৌদ্ধ যুব পরিষদ এর শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিষ্টাকালীন ট্রাষ্ঠি হিসেবে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের ট্রাষ্ট গঠন করা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যার মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক দুর্বিপাকে বিপর্যস্ত জাতি বর্ণ- ধর্ম নির্বিশেষে সকলের উপকার সাধন করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ।
বাংলাদেশ একটি বহু ধর্মীয় ও সংস্কৃতির দেশ। বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ দেশের সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যুবকদেরকে একটি কাঠামোগত প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধকে লালন করে।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ ৫৯ বৎসর পর্যন্ত সমাজ, দেশ, স্বধর্ম ও জ্ঞাতিদের জন্যে নিরলসভাবে কাজ করলেও ৫৭,৫৮, ৫৯ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে যার মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থায়ী অফিস ক্রয় ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ ট্রাষ্ট গঠন একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে গন্য হবে।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের সকল প্রতিষ্ঠাতা, শুভানুধ্যায়ী, সংগঠক ও সক্রিয় কর্মকর্তাদের ও সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি ৫৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে।।
সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত থেকে সমাজ, দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে সৎ ও কুশল কর্ম সম্পাদন করাই হলো বুদ্ধের শিক্ষা।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক ও দুঃখ থেকে মুক্ত হোক।