মাহমুদুন্নবী, পত্নীতলা ( নওগাঁ ) প্রতিনিধি:
রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নওগাঁ জেলার ২ ( ধামইরহাট ও পত্নীতলা ) আসনটি দীর্ঘ্যদিন ধরে বিএনপি’র শক্ত ঘাটি হিসাবে পরিচিত ছিলো। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির শক্ত অবস্থান ছিলো স্পষ্ট। কিন্তু এবারের জেলার ৫ টি আসনে বিএনপি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করলেও বিএনপি’র ঘাটি নামক আসনটি তে হয়েছে ভরাডুবি। এই ভরাডুবির অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন দিতে ভুল সিদ্ধান্ত। ৫ তারিখের পর দলটির কেন্দীয় নির্বাহী কমটিরি কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খান দল কে সুসংগঠিত না করে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের অবমূণ্যায়ন করে তার স্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের নওগাঁ জেলা সভাপতি ( ভারপ্রাপ্ত ) সামিনা পারভিন পলি’র সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাকার বিনিময়ে হাইব্রিট নেতাদের নিয়ে পকেট কমিটি গঠন। সামিনা পারভিন পলি’র নেতৃত্বে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, পুকুর দখল, বালুর চর দখল, টাকার বিনিময়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের আশ্রয় সর্বশেষ নির্বাচনের পূর্বে দলের সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের বহিষ্কার করা।
দলের নেতাকর্মীদের দাবি, ৫ আগষ্টের পূর্বে সর্বশেষ লোক দেখানো দু একটা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ২০১২-২০১৩ সালে। তারপর থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান ও তার স্ত্রী সামিনা পারভিন পলি কে আর মাঠে দেখা যায়নি। সামিনা পারভিন পলি’র বাবা পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হবার কারণে ফ্যাসিষ্ট হাসিনার আমলে তাদের নামে রাজনৈতিক কোন মামলাও হয়নি। অপরদিকে যারা আন্দোলন করেছে, নির্যাতনের স্বিকার হয়েছে, মামলা, জেল খেটেছে তাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে পকেট কমিটি দিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ফিরোজ হোসেন বলেন, আমি জেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আমার থেকে সাবেক এমপি জোহা খান ব্যবসার কথা বলে ১৪ লক্ষ টাকা নিয়েছে। কিন্তু টাকা নেবার পরে তিনি আর আমাকে চিনেনা বললেই চলে। পাওয়া টাকা নিতে গেলে তার স্ত্রী পলি একাধিকবার তার লোকজন দিয়ে তার বাসা থেকে আমাকে বের করে দিয়েছে। এমনকি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিনি লোক পাঠিয়ে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে যাতে আমি এই বিষয়ে কোথাও মুখ না খুলি।
আব্দুল হাকিম মন্ডল বলেন, সামসুজ্জোহা খানের স্ত্রী পলি ক্ষমতা না পেতেই তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থেকে লোকজন নিয়ে বালুর চর দখল করে। ইসবপুর ইউনিয়নে একদিনে ২১ টি পুকুর দখল করে। প্রতিটি এলাকায় তিনি যেভাবে চাঁদাবাজি আর দখলবাজি করেছে। এটা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। যার ফলে ১২ তারিখের ভোটে তার স্বামী সামসুজ্জোহা খান কে ভোট দেয়নি।
স্থানীয় বিএনপি’র সিসিয়র নেতারা বলছেন, সামসুজ্জোহা খান বিয়ে করেছে আওয়ামীলীগের পত্নীতলা উপজেলা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির মেয়ে পলি কে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে শ^শুরের ক্ষমতায় তিনি ভালো থাকেন আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে তার বউ রাজত্ব চালায়। আমরা দেখেছি ১৯৯২ সালে নজিপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জোহা খানের স্ত্রী সামিনা পারভিন পলি সরাসরি ছাত্রলীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল। নির্বাচনের এক পর্যায়ে যখন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয় তখন জোহা খানের স্ত্রী পলি হকস্টিক হাতে ছাত্রদলের নেতাদের মারপিট করেছিলো।
এছাড়াও সাধারণ ভোটাররা বলছেন, অতীতে তিনি এমপি ছিলেন। আমরা দেখেছি তার শাসনকাল। নামে মাত্র তিনি এমপি ছিলেন। চাকরী বা যেকোন কাজের জন্য তার কাছে গেলে তিনি বলতেন তোর ভাবির সাথে দেখা কর গিয়ে। ভাবির সাথে দেখা করা মানে টাকা দেওয়া। এক কথায় সবকিছু করতেন তার স্ত্রী সামিনা পারভিন পলি।
এবিষয়ে সামসুজ্জোহা খান ও সামিনা পারভিন পলি জানান, রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গোষ্ঠী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.