শরিফুল হক পপি, কুষ্টিয়া
‘এখন মনে করবি কুষ্টিয়া হচ্ছে গফুরের হাতের ভিতর, কুষ্টিয়া জেলা গফুরের হাতের মদ্যি। আমার ড্রাইভারকে মারতি যাবা আর আমি বসে তামুক খাবো’ - একথা বলে এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের ভাই আব্দুল মান্নান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে শোনা যায় ইটভাটা মালিক আব্দুল মান্নান দাপটের সাথে উপরোক্ত কথা বলে হুমকি প্রদান করেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার অঞ্জনগাছী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তবে এমপিকে নিয়ে এ কথা বলা ঠিক হয়নি বলে আব্দুল মান্নান স্বীকার করেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নে পাকা রাস্তার উন্নয়ন কাজে নিম্ন মানের ইট ব্যবহার হচ্ছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজে বাধা দেয় এলাকাবাসী। এতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইটভাটা মালিক কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের ভাই আব্দুল মান্নান। তিনি এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ এখন মনে করবি কুষ্টিয়া হচ্ছে গফুরের হাতের ভিতর, কুষ্টিয়া জেলা এখন গফুরের হাতের মদ্যি। আমার ড্রাইভারকে মারতি যাবা আর আমি বসে তামুক খাবো।’
এমন বক্তব্যর সত্যতা স্বীকার করে আব্দুল মান্নান জানান, নিম্নমানের ইট তিনি সরবরাহ করেননি। স্থানীয় বিএনপির লোকজন চাঁদার দাবিতে কাজে বাধা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আপনারা এসে দেখে বিবেচনা করেন আমি কত নম্বর ইট দিচ্ছি। ইটের গাড়ি কাজের সাইটে আসলে আমার ড্রাইভারের সঙ্গে হেলাল নামে স্থানীয় একজন খারাপ আচরণ শুরু করে। যে ঠিকাদার কাজ করছেন তিনি নতুন। আমার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। তবে আমি মানছি এমপিকে নিয়ে যে কথা বলেছি তা বলা আমার ঠিক হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মিরপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমলা ইউনিয়নের নিমতলা থেকে কালিতলা পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার পাঁকা রাস্তার মেরামত কাজ চলমান। ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় কাজ পায় কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চঞ্চল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী, রাস্তার কাজে ১ নম্বর ইট ব্যবহার করতে হবে।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ কাজে ২-৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় একটি পক্ষকে পিকনিকের খরচ দেওয়ার সম্মতিতে ঠিকাদারসহ অন্যরা বিষয়টি সমঝোতা করেছেন।
কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাবু জানান, রাস্তার কাজে কোনো খারাপ ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, এখন মিলেমিশে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি।
এলজিইডির মিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগটি সঠিক নয়। এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। এমপির ভাই ঠিকাদারকে ইট সরবরাহ করছে বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বাধা দিয়েছিল। পরে সেটা বসে তারা ঠিক করে নিয়েছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.