অনলাইন ডেস্ক
মৌলভীবাজার অতিবৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েছে। এতে হাওরের নিচু এলাকার বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
বিশেষ করে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় বোরো ধান কাটতে পারেননি কৃষকরা। জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর। হাওরে এখন পর্যন্ত ৮৫% ধান কাটা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “সব মিলিয়ে ৮৯৭ হেক্টর ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তবে তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। হাওরে ধানা কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সামান্য ধান কাটার বাকি রয়ে গেছে,আশা করি বৃষ্টি কমলেই ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।”
অপরদিকে, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। ইতিমধ্যে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)।
আবহাওয়া কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে মৌলভীবাজারে ঝড়ের সঙ্গে হালকা ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মৌলভীবাজার জেলা শহরে খাল-নালা উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নিচু এলাকার অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে পানি উঠেছে। অন্যদিকে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদী এবং হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরে পানি বাড়ছে। বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। কর্মজীবী মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মৌলভীবাজারে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গত পাঁচদিনে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩১১ মিলিমিটার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার ও উজানে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় মনু, ধলাইসহ জেলার প্রধান নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরেও পানি বেড়েছে। হাওরগুলোর নিচু অংশের অনেক জমির পাকা ও আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তবে কৃষকেরা পাকা ধান অনেকটাই কেটে ফেলেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আরও বলেন, হাওরে আজ কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর ফসলের খেত নিমজ্জিত হয়েছে। অন্যদিকে হাওরাঘেঁষা অঞ্চলে সবজিখেতের মাচা নিমজ্জিত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে এগুলো ভেসে উঠবে। প্রাথমিকভাবে আউশের কিছু বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। তবে এখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। তবে একমাত্র জুড়ী নদী ছাড়া অন্য সব নদ–নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হাকালুকি হাওর পানিতে ভরে গেলে জুড়ী নদীতে পানি প্রায় সারা বর্ষাই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বুধবার বিকেল ৩টায় জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মনু নদের পানি রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপৎসীমার ৩২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনীঘাটে ১৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদের রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিকেল ৩টায় ২৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুরে বিপৎসীমার ২৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, “জেলায় এখনও কোনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নদ-নদীতে পানি বাড়লেও এখন কমছে। তবে জুড়ী নদী ছাড়া মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদ–নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাওরে পানি বেড়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে সেচপাম্প চালু আছে। এখনও বাড়িঘরে পানি ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।” তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.