স্বপন কুমার সিং :
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক ( ঢালাই শ্রমিক) নিহত হয়েছেন।
রোববার (৩রা মে) ভোর প্রায় ৬টার দিকে ঢাকা - সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
প্রতিদিনের মতো ওই দিনও ভোরে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে ২০–২২ জন নির্মাণ শ্রমিক একটি পিকআপে করে লালাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢালাই কাজ করার কথা ছিল তাদের। পিকআপে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ধাতব সিমেন্ট মিক্সার মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ছিল।
পথিমধ্যে তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে সিলেটমুখী ট্রাকটির সঙ্গে পিকআপটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপে থাকা মিক্সার মেশিনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শ্রমিকরা ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন নারী শ্রমিক ছিলেন।
গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জনে। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সহোদর আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন, ধর্মপাশার সরিষা গ্রামের নার্গিস আক্তার, দিরাই উপজেলার সিচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম, ভাটিপাড়া গ্রামের সুরুজ আলী, ভাটিপাড়া নূরনগরের ফরিদুল ইসলাম এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ট্রাক ও পিকআপটি জব্দ করে। ট্রাকের সহকারীকে আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। ফায়ারর সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, চালক ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নিহত নুরুজ আলীর ভাই সুয়েব আলী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকার পর রোদ উঠায় তারা কাজে বের হয়েছিলেন। একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে পিকআপে করে সুনামগঞ্জে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ সংঘর্ষের পর সবাই ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই অনেকে মারা যান।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে গভীর শোক। কাজের সন্ধানে বের হয়ে লাশ হয়ে ফেরার এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ৭ জুন একই মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার কুতুবপুর এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় ১৪ নির্মাণ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও চালকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং পলাতক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.