চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অনুমোদনহীন কসমেটিকস উৎপাদন ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। পণ্যের গায়ে মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার এবং অবৈধভাবে প্রসাধনী তৈরির অপরাধে একটি কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য ও মোড়ক জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে লোহাগাড়া উপজেলার আলুঘাট রোডস্থ জিসান সুপার মার্কেটে অবস্থিত "মেসার্স বিএম herbal এন্ড কসমেটিক" নামক প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন।
তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির নামে শুধুমাত্র 'টিউব মেহেদী' উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর অনুমোদন ছিল। কিন্তু তারা সেই সীমানা পেরিয়ে অন্যান্য কসমেটিকস পণ্যও তৈরি করছিল।
অভিযানকালে কারখানা থেকে জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
◑নিউ নিম পাতা হেয়ার রিমোভাল ক্রিম
◑নওরিন ওয়াটার গ্লস/ওয়েট লুক হেয়ার জেল সফট
◑বিপুল পরিমাণ খালি লেবেল এবং টিউব মেহেদীর ভুয়া মোড়ক।
প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের বিএসটিআই (BSTI) লাইসেন্স ছিল না। এছাড়া ক্রেতাদের প্রতারিত করতে পণ্যের গায়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ ও জালিয়াতির অপরাধে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলমকে (পিতা: আবদুর রশিদ, সাং: দক্ষিণ কাকারা, চকরিয়া) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও বৈধ নিবন্ধন না নেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
জনস্বার্থে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শের আলী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন লোহাগাড়া থানার এসআই মোনছুর আলমসহ পুলিশ সদস্য এবং আদালতের পেশকারবৃন্দ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং ভেজাল ও নকল প্রসাধন সামগ্রী প্রতিরোধে এ ধরণের তদারকি ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।