অনলাইন ডেস্ক
ছয়টি ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, ছবিতে তাদের মধ্যে একজন
চট্টগ্রামে গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পাঁচ স্থানে ছয় শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরের বাকলিয়া, চান্দগাঁও, খুলশি, ডবলমুরিং ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এমনকি ঘটনায় জড়িতদের পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষোভ করেন গ্রামবাসী। একই ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন তারা। ছয় ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি টেকবাজার এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে ৫৫ বছর বয়সী এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আশফাকুর রহমান নামের ওই দোকানিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার নিয়মিত ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করতো। গত ১৫ মে শিশুটিকে একা পেয়ে দোকানের ভেতর নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। বিষয়টি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে পরিবারের লোকজন ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ঘটনাটি গোপন রাখে। শুক্রবার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটির পরিবার চান্দগাঁও থানায় মামলা করার পর রাতেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘শুক্রবার শিশুটির পরিবারের করা মামলায় মুদির দোকানিকে গ্রেফতার করে আজ আদালতের মাধ্যমে কারগাারে পাঠানো হয়েছে।’
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে খুশলী থানার আমবাগান এলাকায় ১০ ও ৬ বছরের দুই বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবদুল বাতেন নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুলশীর আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন এক মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আবদুল বাতেনের বাড়ি কুমিল্লায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে।
খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকতার সুবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকায় থাকতেন। ভুক্তভোগী দুই বোনেরও শিক্ষক ছিলেন। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।’
শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় এহসান নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটকের পর মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় আনার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। অভিযুক্তকে লোকজন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
একই দিন দুপুরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোহাম্মদনগর এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ১০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকলিয়ায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার মনির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.