অনলাইন ডেস্ক
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় গত দুই মাস ধরে দিনের ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
পাশাপাশি উপজেলার জামুর্কি এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
রোববার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, গত দুই মাস ধরে মির্জাপুরে ভয়াবহ লোডশেডিংয় হচ্ছে। দিন-রাতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ মিলছে না। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কবলে পরে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষার্থী। এক জুলাই থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার খুদে শিক্ষার্থীর একই অবস্থা।
আগামী ১ জুলাই থেকে বার্ষিক পরীক্ষা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। লোডশেডিং ও গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি শিল্পাঞ্চলে মিল কারখানায় উৎপাদন মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে রোববার দুপুরে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী উপজেলা দেলদুয়ার ও বাসাইল উপজেলার কয়েক শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসহ শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে জামুর্কি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি জামুর্কি পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও অফিস ঘোরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধরা। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় বিএনপির স্থানীয়দের নেতারাও বিক্ষুব্ধদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টায় চেষ্টার পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।
দুই নম্বর জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডি এ মতিন পৌঁছে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। সড়ক অবরোধের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করিয়েছি।
মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহাসড়কের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
এদিকে পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
আগামী ১ জুলাই থেকে উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ঠিক মতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন গ্রিড থেকে উৎপাদন কম এবং প্রয়োজনীয় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন এবং মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোকলেছুর রহমান ও খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, মির্জাপুর উপজেলায় দুটি জোনাল অফিসের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা সে তুলনায় ময়মনসিংহ জোন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে না। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় শিল্পাঞ্চল রয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোডশেডিং হচ্ছে বেশি। বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.