এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন নরসিংদীর দুটি কেন্দ্রে ভুল এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ছয় শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় উপকেন্দ্রের একটি কক্ষে পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত আগের বছরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকদের অবহিত করেন। পরে ভুল প্রশ্নপত্র সরিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হলেও অতিরিক্ত সময় না পাওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক নাছিমা আক্তার বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরপরই তা সংশোধন করা হয়। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রেও প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ভিন্ন সেটের এমসিকিউ প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অনেকেই পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে উত্তর মিলিয়ে ভুলটি জানতে পারেন।
এক পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা শেষে বাসায় গিয়ে উত্তর যাচাই করতে গিয়ে বুঝতে পারেন যে তিনি নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেননি। এতে ফলাফল নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অসতর্কতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের সুযোগ থাকে। তাই প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় চার শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, নরসিংদী সদর কেন্দ্রের ঘটনায় জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী যাতে এ ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়েও শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।