প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৪, ২০২৬, ৫:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৩, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
নাগরপুরে প্রায় ৪ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

এম.এ.মান্নান নাগরপুর (টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের খাস-ঘুনিপাড়া গ্রামে ২০২৩ সালে এলজিইডির একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও তিন বছর ধরে সেতুর দুই পাশে গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাস-ঘুনিপাড়ায় নির্মিত সেতুটি নাগরপুর সদরে প্রবেশের অন্যতম শর্টকাট পথ। এ সড়কটি শুধু নাগরপুরের মানুষই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারাও ব্যবহার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, “সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং রোগী আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় মানুষকে কাদা, পানি ও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার পক্ষে সাব-কন্ট্রাক্টর রিপন কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই দীর্ঘদিন আগে এলাকা ত্যাগ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনের পর আর কোনো কাজ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-কন্ট্রাক্টর রিপন মুঠোফোনে কোনো তথ্য না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বলতে বলেন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “সেতুর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সেতুর পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থী, সিএনজি, অটোরিকশা এবং পণ্যবাহী যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, “বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।” তিনি দ্রুত গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়েনি। ঠিকাদার ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও অবহেলার কারণেই সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়নি।”
উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, “সেতুর অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন হয়নি। মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি সংশোধন করে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুর বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গাইড ওয়ালের নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.