ফাহাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহমদ প্রকাশ শাহ্ সাহেব কেবলা চুনতী (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর ৫ম দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতীস্থ ঐতিহাসিক শাহ্ মনজিল সীরাত ময়দানে মাহফিলের এ অধিবেশন সম্পন্ন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম রাসুল কমরী এবং যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন।
মাহফিলে আমন্ত্রিত আলেম-ওলামা ও শিক্ষাবিদগণ ইসলামী জীবনব্যবস্থা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, মুসলিম উম্মাহর বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং পর্দার বিধানসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ‘বিসমিল্লাহ শরীফের ফজিলত বর্ণনা’ বিষয়ে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুর রশিদ বলেন, প্রতিটি কল্যাণকর কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণের মধ্যে বরকত নিহিত রয়েছে। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা বাড়াতে হবে।
‘প্রযুক্তির সুফল-কুফল এবং অপব্যবহার থেকে বাঁচার উপায়’ নিয়ে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মাওলানা হারুনুর রশীদ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করলেও এর অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজে নৈতিক স্খলন ঘটাচ্ছে। তাই এর ক্ষতিকর দিক থেকে সতর্ক থেকে কল্যাণকর খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা এনামুল হক ‘মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনের কারণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনায় বলেন, জ্ঞানচর্চা থেকে বিচ্যুতি, অনৈক্য এবং ইসলামী আদর্শ ভুলে যাওয়াই মুসলিম জাতির বর্তমান দুর্বলতার মূল কারণ। কোরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসরণ এবং পারস্পরিক সুদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমেই কেবল এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
‘পর্দার গুরুত্ব ও বিধান, পর্দাহীনতার কুফল এবং ওলামায়ে কেরাম ও সমাজ পরিচালকদের দায়িত্ব’ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা নেজাম উদ্দিন বলেন, পর্দা কেবল একটি বিধান নয়, বরং এটি নারী-পুরুষ উভয়ের আত্মমর্যাদা ও সামাজিক শালীনতা রক্ষার অন্যতম স্তম্ভ। সমাজে পর্দার বিধান বাস্তবায়নে পরিবার, উলামায়ে কেরাম ও সমাজ পরিচালকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা আবশ্যক।
মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মাওলানা ইলিয়াছ ছিদ্দিকী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা শজাআত উল্লাহ ফারুকী।
এ ছাড়া মোতাওয়াল্লী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক মুহাম্মদ ইবনে দিনার নাজাত, সদস্য আলহাজ্ব আবু তাহের, আলহাজ্ব ইসমাইল মানিক, সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী ও এইচ. এম. মাহাবুবুল হকসহ মাহফিল পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ফারুকী ও এইচ.এস.এম. দিদারুল ইসলাম। না’আতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ ও মুহাম্মদ ইমাম হোসাইন। মাহফিলে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।