প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ২:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুমিল্লায় নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন তুহিন, আনাস ও ফাহিম। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু একটি আইফোনকে কেন্দ্র করে ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে—সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চায় পুলিশ।
তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পর অপ্রতিমের বাবা-মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাইরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল সে। মায়ের আইফোনটি সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ, পরিবারের সদস্য এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় তার সন্ধানে তল্লাশি চালান।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের সঙ্গে এক যুবককে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই যুবককে তুহিন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে অপ্রতিমকে ওই যুবকের সঙ্গে সানন্দা পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তুহিনকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সন্ধ্যার পর আনাস ও ফাহিমকেও আটক করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত অপ্রতিম।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য মাহমুদুল হাসান রাহাত জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে তাকে এক যুবকের সঙ্গে সানন্দা পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ বলছে, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।