স্বপন কুমার সিং , সংবাদদাতা :
দেবী দুর্গার শক্তি, পবিত্রতা ও মাতৃসত্তার আরাধনায়
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জয়পুরে অবস্থিত পূণ্যভূমি শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধামে (শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মাতুলালয়) অনুষ্ঠিত হয়েছে অষ্টমবারের মতো কুমারী পূজা।
সোমবার ( ১৯ অক্টোবর) সকালে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহে আয়োজিত এ পূজায় ১১ বছর বয়সী অভয়া জ্যোতি চক্রবর্ত্তীকে ‘রুদ্রাণী’ নামে কুমারী রূপে পূজা করা হয়। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের উপপরিচালক অলক চক্রবর্ত্তী ও মেজর অলকা ভট্টাচার্যের দ্বিতীয় কন্যা। অভয়া জ্যোতি পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে কুমারী পূজা নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, মাতৃসত্তার বন্দনা এবং সৃষ্টির অন্তর্নিহিত শক্তির আরাধনার প্রতীক। এই পূজার মধ্য দিয়ে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অধিকার সুরক্ষা, কল্যাণ ও অগ্রযাত্রার ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা হয়। নারী যেন নির্যাতন ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষা, কর্ম ও নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে পারেন—এমন প্রত্যাশাও পূজার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের সঙ্গে যুক্ত।
সোমবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সময় ভক্তরা দেবীর চরণে প্রার্থনা করেন এবং বিশ্বজগতের শান্তি, মানবকল্যাণ ও নারীর সম্মানজনক অবস্থান প্রতিষ্ঠার কামনা করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ভক্তি ও উৎসবের আবহ বিরাজ করে।
শ্রীশ্রী শচী অঙ্গন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব অশোক মাধব রায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী অতীন দত্ত চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শচী অঙ্গন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. নিবাস চন্দ্র পাল, পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহসভাপতি শ্রী কন্দর্প বণিক মিহির, বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য সাধারণ সম্পাদক বার্ষিক উৎসব উদযাপন পরিষদ, বার্ষিক উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন দেব, রথযাত্রা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল কর ও সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু দেব বিশাল। উপস্থিত ছিলেন বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার, বাহুবল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া এবং শচী অঙ্গন পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ বণিকসহ সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা।
শচী অঙ্গন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. নিবাস চন্দ্র পাল কুমারী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও কল্যাণবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করে। নারীকে সম্মান করা, তাঁর মর্যাদা রক্ষা করা এবং সমাজে নারীর ইতিবাচক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়েই পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে।
শ্রীশ্রী শচী অঙ্গন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, কুমারী পূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও মাতৃসত্তার বন্দনার প্রতীক। নারীর প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবার থেকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই এমন আয়োজনের অন্যতম ইতিবাচক প্রত্যাশা।
শ্রীশ্রী শচী অঙ্গন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী রণধীর চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক সুবীর রঞ্জন দেব জানান, এবার অষ্টমবারের মতো কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজিত নাম ‘রুদ্রাণী’তে কুমারীকে দেবীশক্তির প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়। তাঁরা বলেন, পৃথিবীর সব নারীর কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক; নারীরা শিক্ষা, কর্ম ও নেতৃত্বে আরও এগিয়ে যাক এবং নারী নির্যাতন বন্ধে সমাজে সচেতনতা বাড়ুক—এমন ইতিবাচক বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা।
পূজা শেষে উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকেরা ভক্তদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগমে শ্রীশ্রী শচী অঙ্গন ধামে সৃষ্টি হয় এক আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.