অনলাইন ডেস্ক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এতে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে তাদের বের করে আনেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিজেদের শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে সিন্ডিকেটের সভা চলছিল। সভা শেষে উপাচার্য বের হতে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা দেখতে পান। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের বাইরে নিয়ে আসেন।
এর আগে গতকাল সোমবার এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়োগের পর থেকেই ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম নিয়োগটি বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে, তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ প্রত্যাহার করে ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে ছাত্রদলকে ডেকে এনে পরিস্থিতি জটিল করেছেন।
তবে ভবনের তালা ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা তালা ভাঙিনি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’
এদিকে ভবন থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।’
যারা তালা দিয়েছেন এবং এ ঘটনার পেছনে যেসব শিক্ষক রয়েছেন বা যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান উপচার্য।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.