ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা: ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়া
ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা: ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়া
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে চলমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তেহরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
মস্কোর কড়া হুঁশিয়ারি রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। গত বছর জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।” তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের মার্কিন হুমকি মূলত একটি ‘ব্ল্যাকমেইল’ এবং এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
ট্রাম্পের উসকানিমূলক বার্তা এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সরাসরি ইরানি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Manual1 Ad Code
ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন, তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।
” তিনি আরও ঘোষণা করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করা হয়েছে এবং ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, “সহায়তা আসছে।”
Manual7 Ad Code
রুশ পর্যবেক্ষণ: বিক্ষোভ স্তিমিত হচ্ছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মারিয়া জাখারোভা দাবি করেন, ইরানে চলা আন্দোলনগুলো কৃত্রিমভাবে উসকে দেওয়া হয়েছে। রুশ গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং বিদেশি মদদপুষ্ট এই অস্থিরতা স্তিমিত হয়ে আসছে।
Manual1 Ad Code
বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘সহায়তা আসছে’ এমন মন্তব্য এবং রাশিয়ার ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুমকি ইরানকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।