আজ শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

editor
প্রকাশিত জুলাই ১৭, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র, বাম-ঘেঁষা নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর ফলে তিনিই হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

Manual3 Ad Code

শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

Manual8 Ad Code

মেকারফিল্ডের এই এমপি সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের হাত থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

Manual6 Ad Code

দলের নেতা এবং হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঞ্চে ওঠার পর তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান দলের নেতা-কর্মীরা। দায়িত্ব নিয়েই বার্নহ্যাম দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তার নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এটি এক অনন্য মুহূর্ত।’

দলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেন। নিজের অতীত ভুলভ্রান্তি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো সব সময় সব কিছু ঠিক করতে পারিনি। যেখানে আমার ঘাটতি ছিল, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমি সবসময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।’

বক্তব্যের শেষে দলের কর্মীদের আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং আমি কী করতে চাই। আমার কাছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে (আই হ্যাভ আ প্ল্যান)। আমি আপনাদের সবার ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা এটি করতে পারব।’

তিনি আরও জানান, সময়ের সাথে সাথে তিনি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন। লেবার পার্টিতে পুনরায় ‘আশা’ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নহ্যাম পাঁচটি প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন

১. ‘এক লেবার টিম’ গঠন: দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করে বার্নহ্যাম বলেন, দলাদলি লেবার পার্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একটি বিভক্ত দল কখনোই ব্রিটেনের নতুন ডানপন্থীদের হারাতে পারবে না। তাই তিনি ঐক্যবদ্ধ দল গঠনের ওপর জোর দেন।

Manual6 Ad Code

২. নতুন ধারার রাজনীতি: বার্নহ্যাম দাবি করেন, জনগণ রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়। মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি সততার সাথে কথা বলেছেন বলেই ভোটাররা তাকে গ্রহণ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য এটাই আমাদের শেষ সুযোগ’’

৩. রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সংস্কার: বার্নহ্যাম জানান, তিনি অন্য দলগুলোর সাথে মিলে কাজ করবেন, তবে লেবার পার্টি এখন থেকে অন্য কারো রাজনীতি ধার না করে বরং ‘সাহসের সাথে নিজস্ব নীতি’ নিয়ে এগিয়ে যাবে।

৪. পুরো যুক্তরাজ্যের নেতা হওয়া: তিনি কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের নয়, বরং উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম এবং স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ পুরো যুক্তরাজ্যের নেতা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেশকে একটি সাধারণ উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

৫. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: ওয়েস্টমিনিস্টার থেকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তিনি স্থানীয় এলাকাগুলোতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চান।