গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের হুমকি চীন-ইউরোপকে আরও কাছাকাছি আনছে!
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের হুমকি চীন-ইউরোপকে আরও কাছাকাছি আনছে!
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান না, বরং তিনি এটি ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কিনে নিতে চান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা সামনে আসার পর জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে ডেনমার্কের মিত্রদের মধ্যে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি আর্কটিক অঞ্চলে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে কিছু পর্যবেক্ষক বলছেন যে এটি ইউরোপের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির দ্বারও খুলে দিতে পারে।
ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর হোয়াইট হাউস দ্রুত ডেনমার্কের স্বশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের দিকে মনোযোগ দেয়। এ সময় হোয়াইট হাউস জানায়, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পও কমান্ডার-ইন-চিফের হাতে সবসময় রয়েছে।
রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এখনই’ গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার দাবি, ওই এলাকায় সর্বত্র রুশ ও চীনা জাহাজের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
Manual8 Ad Code
এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিং ওয়াশিংটনকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজের স্বার্থ আদায়ের জন্য তথাকথিত ‘চীন হুমকি’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি সেখানে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও রয়েছে।
Manual7 Ad Code
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় আর্কটিকের মধ্য দিয়ে নতুন ও সম্ভাব্য লাভজনক সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। এসব পথ ব্যবহারে বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে নৌযাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর ইউরোপ ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা একজোট হয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের মালিক শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণই এবং আক্রমণ বা দখলের প্রচেষ্টা তারা মানবে না।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে নাটো’র অবস্থা বিপন্ন হবে এবং এই ধরনের হুমকি বন্ধ করা উচিত।
ইউরোপীয় নেতারা এই ইস্যুকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আলোকে সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা আবারো জোর দিয়ে বলেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।