শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
ইমদাদুন খানম,লন্ডন থেকে,
শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে যুক্তরাজ্যজুড়ে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় ক্যাম্পেইন ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ সম্পন্ন হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার দাবিতে প্রবাসী কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
Manual4 Ad Code
ইংল্যান্ডের সর্বদক্ষিণের শহর পোর্টসমাউথ থেকে শুরু হওয়া এই রোডমার্চ ওয়েলস, মিডল্যান্ডস, নর্থ ওয়েস্ট, ইয়র্কশায়ার ও নর্থ ইস্ট অতিক্রম করে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় গিয়ে শেষ হয়। সফরকালে যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৭টি শহরে দোয়া মাহফিল, জনসভা, পথযাত্রা এবং প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম দিনে পোর্টসমাউথে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রিস্টল ও কার্ডিফে স্থানীয় প্রবাসীদের অংশগ্রহণে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ব্রিস্টল, বার্মিংহাম, লেস্টার, নটিংহাম, ম্যানচেস্টার, ওল্ডহাম, ব্ল্যাকবার্ন, ব্রাডফোর্ড, নিউক্যাসল, সান্ডারল্যান্ড এবং সর্বশেষ এডিনবরায় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিটি সমাবেশে বক্তারা ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, নৈতিক দায়িত্ববোধ ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মার্চ চলাকালীন সময়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আপোষহীন নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। তার স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে তার ওপর চালানো নির্যাতন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দেশের জন্য তার ত্যাগের কথা তুলে ধরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
শনিবার এডিনবরায় চূড়ান্ত কর্মসূচি শেষে প্রতিনিধিদল লন্ডনে ফিরে আসে। সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডনের ওসবোন স্ট্রিটের সুইট হার্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা বিভিন্ন শহরের জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া, প্রবাসী কমিউনিটির সংহতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের আহ্বায়ক মুজাহিদ রিয়াজ বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চ ইউকে শুরু থেকেই মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে আসছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখতে শহীদ ওসমান হাদি যে আন্দোলনের সূচনা করে গেছেন, তা বিশ্বব্যাপী আরও বেগবানভাবে চলমান থাকবে।”
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের সদস্য সচিব বেলাল হোসেন বলেন, “এই রোডমার্চ আমাদের আন্দোলনের শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন সূচনা। সামনে আরও বৃহৎ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শহীদ ওসমান হাদির সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”
Manual4 Ad Code
রোডমার্চ সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের সদস্য ও আইটি বিশেষজ্ঞ আব্দুল বাসিতের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, তিনি অর্থ, সময় ও দীর্ঘ পথ নিজ হাতে গাড়ি চালিয়ে দলকে প্রতিটি শহরে সময়মতো পৌঁছে দিয়ে এই কর্মসূচিকে সফল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।
Manual2 Ad Code
মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস টিমের সদস্য তৌহিদুল করিম মুজাহিদ বলেন, “‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলন। শহীদ ওসমান হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।”
Manual1 Ad Code
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জানুয়ারি মাস থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক কর্মসূচি ও মানববন্ধন আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত ৩০ দিনের আল্টিমেটাম শেষে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মাধ্যমে প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও মানবিক দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে। কর্মসূচি শেষ হলেও ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও সংগঠিত আন্দোলনের ঘোষণা আসবে বলে জানান আয়োজকেরা।