যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় আসছেন ১২ জানুয়ারি, বসবেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় আসছেন ১২ জানুয়ারি, বসবেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন। মার্কিন দূতাবাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তার আগমনকে কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকায় ক্রিস্টেনসেন খুবই ব্যস্ত সময় পার করবেন। সকল পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন, যা ডিসেম্বরে সিনেটের অনুমোদন লাভ করে। অনুমোদনের পর লিংকডইনে পোস্ট করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের বর্তমান অস্থিরতা ও আসন্ন নির্বাচনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অপরিহার্য। সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং বাণিজ্য বাধা কমিয়ে সম্পর্ক জোরদার করবে।’
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাঙ্কের সদস্য। তিনি ২০১৯-২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০২২-২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। তার অন্যান্য পোস্টিংয়ের মধ্যে রয়েছে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটি। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
Manual4 Ad Code
পিটার হাসের পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ দীর্ঘদিন শূন্য ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে হাস ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Manual4 Ad Code
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সাথে জড়িত। তারা সকল পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেন, ঢাকায় নানা বৈঠকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো এবং সামরিক নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করবেন। তিনি মূলত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার হয়। ক্রিস্টেনসেনের আগমনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আরও সক্রিয় হতে পারে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অনিয়ম হলে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এছাড়া চলমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও তিনি কাজ করবেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, যেহেতু ক্রিস্টেনসেন এর আগে ঢাকায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন ফলে তার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতি সামলাবেন।
Manual1 Ad Code
এছাড়া অতীতে রাজনৈতিক কাউন্সেলর থাকায় তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গেই পরিচিত ফলে এই অভিজ্ঞতা আর পরিচিতি তার কাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।