বরিশালে উদযাপিত হচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্মশান দীপালি উৎসব। কালীপূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশীর পুণ্যতিথিতে প্রতিবছর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ ও আত্মার শান্তি কামনায় হাজারো মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ জ্বালান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। উৎসব ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।
হাজারো মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার মহাশ্মশান। শনিবার সন্ধ্যার আগেই সেখানে আসতে শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। প্রয়াত স্বজনদের সমাধি সাজানো হয় পছন্দের খাবার ও নানা উপাচারে। ধর্মীয় রীতি মেনে চলে প্রার্থনা।
স্বজনদের স্মরণ করতে আসা গোবিন্দ বলেন, ‘এটি শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। যারা পরলোকগমন করেছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনায় আমরা প্রার্থনা করি। প্রতিবছর দীপাবলি উপলক্ষে এখানে স্বজনরা আসেন, প্রদীপ জ্বালান। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও আমরা সন্তুষ্ট।’
Manual3 Ad Code
বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার মুরালী বলেন, ১৮৭৬ সালে বরিশাল পৌরসভা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার পর মহাশ্মশানটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
Manual7 Ad Code
নগরীর কাউনিয়ায় প্রায় ২০০ বছর আগে ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমির ওপর মহাশ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে ৬১ হাজারের বেশি সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি পাকা ও ১০ হাজার কাঁচা মঠ। এ ছাড়া ৯০০টি মঠ রয়েছে, যেগুলোর স্বজনরা বর্তমানে দেশে থাকেন না। এসব মঠ হলুদ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বজনহীন মঠগুলোতে কমিটির পক্ষ থেকে মোমবাতি জ্বালানো হয়।
Manual5 Ad Code
কালীপূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশীর তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রয়াত স্বজনদের সমাধিতে দীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রিয়জনদের স্মরণে জ্বালানো মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় পুরো শ্মশান আলোকিত হয়ে ওঠে। আয়োজকদের দাবি, বরিশালের শ্মশান দীপালি উপমহাদেশের প্রথম ও বৃহত্তম আয়োজন।
প্রতিবছর পূর্বপুরুষদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত ও নেপাল থেকে শত শত মানুষ আসেন। এ সময় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মহাশ্মশান।
Manual2 Ad Code
শ্মশান দীপালি ঘিরে কাউনিয়া এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুএঃ টাইমস বাংলাদেশ