আজ শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় বিচারপ্রার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইনজীবী কারাগারে

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
ঢাকায় বিচারপ্রার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইনজীবী কারাগারে

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকায় বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম মো. শামসুল ইসলাম (৫৫)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অভিযুক্ত আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

Manual5 Ad Code

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মামলার তারিখ জানার জন্য তিনি চেম্বারে গেলে আইনজীবী প্রথমে তার শরীরে স্পর্শ করে বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?” এরপর তিনি অফিস থেকে বের হতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ব্যবসা সংক্রান্ত মামলায় আগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরে অভিযুক্ত আইনজীবী মো. শামসুল ইসলামের মাধ্যমে গত বছরের ২৪ জুন আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এরপর থেকে ওই আইনজীবীর মাধ্যমেই প্রতি মাসে মামলার হাজিরা দিচ্ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক রয়েল হোসেন আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগী নারী হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।

Manual2 Ad Code

গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী আবারও মামলার তারিখ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। একই দিনে রাতে আবার ফোন করলে তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় চেম্বারে যেতে বলেন। রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী সেখানে গেলে দেখেন, আইনজীবী একা বসে ফোনে কথা বলছেন।

মামলার তারিখ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আইনজীবী জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার মামলার হাজিরা আছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে গেলে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে অভিযুক্ত আইনজীবী ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “উনি (শামসুল ইসলাম) ওয়ারীতে আমাদের একই এলাকায় থাকেন। সে কারণে তাকে কাকা বলে ডাকতাম। তার মাধ্যমে আমার ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার জামিন করাই। পরে মামলার তারিখ জানাতে টালবাহানা করছিলেন। ওইদিন অফিসে গেলে তিনি জোর করে ধর্ষণ করেন। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করেন। তবে আদালত জামিন শুনানি না করেই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু জিআর শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

Manual4 Ad Code

তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়মানুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন

Manual3 Ad Code