পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অবশ্য কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। প্রায় আট মাস আগেও একবার ইরানে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইসরায়েল।
নতুন করে হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে ৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরানে হামলার যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরটির বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা স্বীকার করে ইসরায়েল। এরপর মার্কিন একজন কর্মকর্তা জানান, এটি ছিল আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এই অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, রাজধানী তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি ও আইআরজিসি সদর দপ্তরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এপিকে উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা বলছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের কাছেও আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে কারমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইস্পাহান, ইলাম ও কারাজ শহরে।
Manual1 Ad Code
হামলার পর যা বলছেন ট্রাম্প
ইরানে হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, নৌবাহিনী দুর্বল করা, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।
Manual4 Ad Code
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেব।’ সেই সঙ্গে তিনি ইরানের সেনা সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘অস্ত্র সমর্পণ করলে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে, কিন্তু প্রতিরোধ করলে নিশ্চিত মৃত্যু।’
কেন এই হামলা?
আমেরিকা ও ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে ইরান বারবারই বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।
আল-জাজিরা বলছে, ধারণা করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র আছে শুধু ইসরায়েলের কাছে। তবে দেশটি এ বিষয়টি কখনো স্বীকার করেনি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। যেসব ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো হলো আল-উবেইদ বিমানঘাঁটি, আল-সালাম বিমানঘাঁটি, আল-দাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে ইউএসএফএফের সদর দপ্তর। এ ছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওমান জানিয়েছে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
Manual2 Ad Code
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বলেছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।