টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের পাঁচবারের দেখায় পাঁচবারই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে নকআউট পর্বে যে প্রোটিয়ারা চোকার্স, সেটা আজ ফের প্রমাণ হলো কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারাল নিউজিল্যান্ড। ১৯ বছরের চেষ্টায় অধরা জয়ে ফাইনালের টিকিট কাটল কিউইরা।
বিশ্বকাপের নকআউট মানেই যেন দুর্ভাগ্য দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। সেমিফাইনালে কিউইদের কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো প্রোটিয়াদের।
ফিন অ্যালানের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ম আসরের ফাইনালে উঠে গেলো নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এনিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনালে খেলবে ব্লাকক্যাপসরা। এর আগে ২০২১ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।
বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৪৩ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে নিউজিল্যান্ড।
Manual2 Ad Code
দলের জয়ে মাত্র ৩৩ বলে ১০টি চার আর ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন ওপেনার ফিন অ্যালেন। তিনি ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েন।
Manual3 Ad Code
এর আগে ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ক্রিস গেইল। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ‘ইউনিভার্স বস’ হিসেবে খ্যাত গেইল ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেন।
Manual2 Ad Code
বুধবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে সম্মানজনক পূঁজি উপহার দিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন মার্কো জানসেন। তাকে সঙ্গ দেন ট্রিস্টান স্টাবস ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস।
এই তিন ব্যাটসম্যানের কল্যাণে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের হয়ে ৩০ বলে দুই চার আর ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৫৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন জানসেন। ২৭ বলে ৩৪ রান করেন ব্রেভিস। ২৪ বলে ২৯ রান করেন ট্রিস্টান স্টাবস।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন কোল ম্যাককলিন, ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবিন্দ্র।
১২০ বলে ১৭০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব চালান নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার টিম সিপার্ট ও ফিন অ্যালেন। ৫৫ বলে তারা স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১১৭ রান। ৩৩ বলে ৭টি চার আর দুই ছক্কায় ৫৮ রান করে ফেরেন সিপার্ট।
ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ফিন অ্যালেন। তিনি ৩৩ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন। জয় নিশ্চিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যাট করতে নেমে ১১ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন রাচিন রবিন্দ্র।